চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের চাওয়া ২৪৭টি চালানের ২৯৩টি কনটেইনারের সবকটিরই অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে; কোনোটিই নিখোঁজ নয়। গত সোমবার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসকে দেওয়া চিঠিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানায়।
চিঠির জবাব ও তথ্য হালনাগাদ
গত জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপকমিশনার মো. তারেক মাহমুদ বন্দরের টার্মিনাল ব্যবস্থাপকের কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আমদানি করা ২৫০টি চালানের খালাস এনবিআরের সার্ভারে 'স্থগিত' (ব্লক) দেখানো হচ্ছে। চিঠিতে এসব চালানের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। একই বিষয়ে গত ডিসেম্বরেও পাঁচটি পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছিল।
প্রায় ছয় মাস পর গত সোমবার বন্দর কর্তৃপক্ষ সেই চিঠির জবাব দেয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যে ২৫০টি চালানের কথা বলেছে, প্রকৃত সংখ্যা ২৪৭টি। এর মধ্যে ১৬৪টি চালানে মোট ২৯৩টি কনটেইনার রয়েছে।
কনটেইনারগুলোর বর্তমান অবস্থা
বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৯৩টি কনটেইনারের মধ্যে কাস্টমের আউটপাসের মাধ্যমে ৮৮টি কনটেইনার বন্দর থেকে খালাস হয়েছে। আরও ৭০টি কনটেইনার বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে ১৩১টি কনটেইনার। বাকি চারটি কনটেইনারের তথ্য সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেছে বন্দর।
অবশিষ্ট ৮৩টি চালান ছিল এলসিএল (লেস দ্যান কনটেইনার লোড) কার্গো, অর্থাৎ একটি কনটেইনারে একাধিক আমদানিকারকের পণ্য ছিল। এসব ক্ষেত্রে কনটেইনার খুলে পণ্য বন্দরের শেডে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে আমদানিকারকেরা নিজ নিজ পণ্য খালাস করে নেন। বন্দর জানিয়েছে, এই ৮৩টি চালানের মধ্যে আটটি ইতিমধ্যে খালাস হয়েছে। বর্তমানে বন্দরের বিভিন্ন শেডে রয়েছে ৩৫টি চালান। বাকি ৪০টি চালানের তথ্য সঠিক নয় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাস্টমসের প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি কনটেইনার 'নিখোঁজ' হওয়ার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হলেও কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, এটি নিখোঁজ হওয়ার বিষয় নয়। এনবিআরের সার্ভারে খালাস স্থগিত থাকা চালানগুলোর অবস্থান যাচাই করতেই দফায় দফায় বন্দরকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কাস্টমস কর্মকর্তারা আরও জানান, বন্দরের দেওয়া তথ্য এখন এনবিআরের সার্ভারের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। কোথাও তথ্যগত অসংগতি থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, 'চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস যেসব কনটেইনারের অবস্থান জানতে চেয়েছিল, সেগুলোর কোনোটি নিখোঁজ নয়। প্রতিটির অবস্থান জানিয়ে তাদের চিঠি দিয়েছি।'



