মন ভালো করা কিংবা প্রিয়জনকে ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশের সবচেয়ে মধুর মাধ্যম চকলেট। একসময় বাংলাদেশের বাজারে ভালো মানের প্রিমিয়াম চকলেট মানেই ছিল চড়া মূল্যের আমদানিনির্ভর পণ্য। আর এই সুযোগে বাজারে ডালডা বা পাম অয়েল দিয়ে তৈরি অস্বাস্থ্যকর নকল চকলেটেরও দাপট ছিল। তবে সেই চিত্র এখন দ্রুত পাল্টাচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায়। বিশ্ব চকলেট দিবসের এই সময়ে স্থানীয় বাজারে দেশি কোম্পানিগুলোর তৈরি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির চকলেট সাশ্রয়ী দামে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আকিজ বেকার্সের ইলানো: যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিতে দেশি উৎপাদন
এই মিষ্টি বিপ্লবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আকিজ বেকার্স লিমিটেড। তারা ইংল্যান্ডের বিখ্যাত কোম্পানি চকোট্রি ইউকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে দেশের মাটিতেই উৎপাদন করছে আন্তর্জাতিক মানের চকলেট ‘ইলানো’। বিলেতি ফর্মুলা এবং যুক্তরাজ্যের কঠোর ম্যানুফ্যাকচারিং স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করায় ভোক্তারা এখন দেশেই পাচ্ছেন ইউরোপীয় মানের পণ্যের স্বাদ।
দামে বড় চমক: অর্ধেক মূল্যে প্রিমিয়াম চকলেট
আকিজ বেকার্স ‘ইলানো টেম্পট্’, ‘ইলানো ক্রিমেল’ কিংবা ‘হাইফাইভ ফন্ডালো’র মতো পণ্যগুলো বাজারে বেশ সাড়া ফেলেছে। এর সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে আছে দামে। বাজারে যেখানে আমদানি করা ৫৫ গ্রাম প্রিমিয়াম চকলেটের দাম প্রায় ২৪০ টাকা, সেখানে একই ওজনের দেশীয় প্রযুক্তির ‘ইলানো টেম্পট্’ মিলছে মাত্র ১২০ টাকায়। আবার ১১০ গ্রামের চকলেট বার পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০০ টাকায়, যা বিদেশি ব্র্যান্ডের তুলনায় অর্ধেকের কম।
গুণগত মান: খাঁটি চকলেটের বৈশিষ্ট্য
খাঁটি চকলেট চেনার প্রধান উপায় হলো এর মসৃণ বুনন এবং মুখে দিলেই গলে যাওয়া, যা আসে আসল কোকোয়া মাস ও কোকোয়া পাউডার থেকে। আকিজ বেকার্স সেই গুণগত মান ধরে রেখে মধ্যবিত্ত ও তরুণদের নাগালের মধ্যে প্রিমিয়াম চকলেট পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্ব চকলেট দিবসের আনন্দ এবার হোক স্বাস্থ্যকর ও খাঁটি দেশীয় স্বাদে।
নির্বাহী পরিচালকের বক্তব্য
আকিজ বেকার্স লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম তুষার বলেন, ‘ইলানোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর আন্তর্জাতিক মানের ফর্মুলেশন ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া। আমরা ইংল্যান্ডের চকোট্রি ইউকের কারিগরি সহযোগিতায় রিয়েল চকলেটের আসল টেক্সচার ও সমৃদ্ধ স্বাদ নিশ্চিত করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য, বিশ্বমানের চকলেটকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা। দেশে উৎপাদিত হওয়ায় উচ্চ আমদানি শুল্ক বা আন্তর্জাতিক পরিবহন খরচ লাগছে না, যার ফলে “অ্যাফোর্ডেবল প্রিমিয়াম” কৌশলে গুণগত মানে আপস না করেই সাশ্রয়ী মূল্যে আমরা ইলানো বাজারে এনেছি। তরুণ প্রজন্ম ও চকলেটপ্রেমীদের কাছ থেকে আমরা দারুণ সাড়া পাচ্ছি। আমাদের চকলেটের সঠিক মূল্য ও মান নিশ্চিত করতে পারায় আমাদের দেশীয় ব্র্যান্ড আমদানি করা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে সফলভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারছে।’
উৎপাদন কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমাদের মূল কৌশল হলো আন্তর্জাতিক মানের কাঁচামাল, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক উদ্ভাবনের সমন্বয়। আমরা বিশ্বমানের উপাদান ব্যবহার করে এমন চকলেট তৈরি করছি, যা স্বাদ, গুণগত মান এবং অভিজ্ঞতার দিক থেকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।’



