রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন: শনিবার ভোট গ্রহণ, ৭৭ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা
আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ৬ ঘণ্টা ভোট গ্রহণ চলবে। এই নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৬৭৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
প্রথমবারের মতো সরাসরি নির্বাচন
রিহ্যাবের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সভাপতি, ৬ জন সহসভাপতি এবং ১৯ জন পরিচালক পদে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংগঠনটির মোট ২৯টি পদের জন্য ৭৭ জন ব্যবসায়ী প্রার্থী হয়েছেন। প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই তিনটি প্রধান প্যানেলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্যানেল ও জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এবারের নির্বাচনে আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ এবং প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ নামে দুটি জোট পূর্ণাঙ্গ প্যানেল উপস্থাপন করেছে। এছাড়া জাগরণ নামে আরেকটি জোট ১৩ সদস্যের একটি খণ্ডিত প্যানেল দিয়েছে। সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নবো উদ্যোগ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল খায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পরিচালক পদেও তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।
প্রার্থীদের তালিকা
প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের চেয়ারম্যান মো. আলী আফজাল, যিনি আগে কখনো রিহ্যাবের পরিচালক হননি। এই প্যানেল থেকে সহসভাপতি প্রার্থী হয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, মো. শেখ সাদি, আবু খালেদ মো. বরকতুল্লাহ, এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, মো. হারুন অর রশীদ এবং নূর উদ্দিন আহমেদ।
জাগরণ প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন ক্যাপিটাল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খান। এই প্যানেল থেকে সহসভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন আবদুল লতিফ, এ এম মহিব উদ্দীন, এস এম জাহিদুল ইসলাম, মো. রেজাউল করিম খান এবং মো. শাহদাৎ হোসেন। এছাড়া পরিচালক পদে তাদের সাতজন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষণ
নির্বাচনে মুখ্য পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সরকারের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার। এছাড়া পর্যবেক্ষক ও সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরও চারজন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।
রিহ্যাবের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া জানান, সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র প্রার্থী, ভোটার এবং অনুমোদিত ব্যক্তিরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। বহিরাগত ব্যক্তিদের প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরাও থাকবেন। ভোট শেষে ম্যানুয়েল ও ডিজিটাল—উভয় পদ্ধতিতে গণনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নির্বাচনের পিছিয়ে যাওয়া
রিহ্যাবের বর্তমান পর্ষদ তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়। গত বছর তফসিল ঘোষণা করা হয় এবং ভোট হওয়ার কথা ছিল এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ভোট প্রায় দুই মাস পিছিয়ে যায়, যা শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।



