হজ ফ্লাইট সংকটে বিমান বাংলাদেশ: মাত্র ৯ দিন বাকি, রোমে আটকে উড়োজাহাজ
আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে চলতি বছরের পবিত্র হজের প্রথম ফ্লাইট। তবে হাতে মাত্র ৯ দিন সময় থাকলেও হজযাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের ফ্লাইট সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিমানের নিজস্ব বহরে উড়োজাহাজের স্বল্পতা এবং একটি বড় উড়োজাহাজ মেরামতের জন্য দেশের বাইরে ইতালির রোমে থাকায় এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উড়োজাহাজ সংকট ও বর্তমান পরিস্থিতি
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের মাত্র ১৪টি উড়োজাহাজ চলাচল করছে। অথচ যাত্রীচাপ এবং নতুন রুট সামলাতে প্রয়োজন অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজ। গত পাঁচ বছরে বহরে নতুন কোনও উড়োজাহাজ যুক্ত না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে ফ্লাইট বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
এরই মধ্যে বিমানের একটি বোয়িং উড়োজাহাজ মেরামতের জন্য ইতালির রোমে রয়েছে। গত ৮ এপ্রিল সেটি ফেরার কথা থাকলেও এখনও ফেরেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলছেন, ১১ এপ্রিলের মধ্যে উড়োজাহাজটি না ফিরলে এবং হজের বহরে যুক্ত না হলে ফ্লাইট বাতিলের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। শিডিউল ঠিক রাখাও তখন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
কর্মকর্তারা বলেন, প্রশস্ত বিমানের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। হজের মত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মেরামতে থাকা ফ্লাইট বহরে যুক্ত না থাকলে ফ্লাইট বাতিল করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও বিমানের বক্তব্য
বিমান পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য ও অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নতুন উড়োজাহাজ ছাড়া বিমান স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম হবে না। ফ্লিট সংকটের কারণে বিমান ব্যবসা করতে পারছে না এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। অবিলম্বে বিমানের বহর বৃদ্ধি না করলে দেশের আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতায় ছিটকে পড়বে।”
উদ্বেগ থাকলেও আশার কথা শুনিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম। তিনি বলেন, “ফ্লাইট স্বল্পতার কারণে হাজিদের যেন কোনও সমস্যা না হয়, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সচেতন। আমরা ধারাবাহিকভাবে মিটিং করছি এবং বিষয়গুলো মাথায় রেখেই কাজ করছি। আশা করি ফ্লাইট সংকট হবে না।”
হজ যাত্রার প্রস্তুতি
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন। ইতোমধ্যে ভিসা ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। হজযাত্রীদের বড় অংশকে পরিবহনের দায়িত্ব বিমানের ওপর। তবে প্রশস্ত বিমানের তীব্র ঘাটতি থাকায় শেষ মুহূর্তে রোমে থাকা ফ্লাইটটি বহরে না ফিরলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন হজে গমনেচ্ছুরা।
এই পরিস্থিতিতে বিমান কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপের দাবি উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ এবং বহর আধুনিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, ভবিষ্যতেও এমন সংকটের মুখোমুখি হতে পারে দেশের জাতীয় বিমান সংস্থা।



