ব্র্যাকের তামারা হাসান আবেদ ফিউচার অব ডেভেলপমেন্ট কোয়ালিশনের কমিশনার নিযুক্ত
ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ ফিউচার অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন কোয়ালিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈশ্বিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে উন্নয়ন সহযোগিতাকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরি করা।
কোয়ালিশনের গঠন ও উদ্দেশ্য
আফ্রিকান সেন্টার ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন এবং সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টের যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই কোয়ালিশনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা, নাগরিক সমাজ, অর্থ ও বাণিজ্যিক খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে কাজ করছেন। এটি অর্থনৈতিক রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ভবিষ্যৎমুখী সমাধান তৈরিতে মনোনিবেশ করবে।
কো-চেয়ার ও কমিশনারদের তালিকা
কোয়ালিশনটির কো-চেয়ার হিসেবে রয়েছেন নাইজেরিয়ার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়েমি ওসিনবাজো এবং স্পেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরানচা গনজালেজ লায়া। তামারা হাসান আবেদ ছাড়াও কমিশনারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন:
- উরুগুয়ের সাবেক অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী আজুসেনা আরবেলচে
- চীনের ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস স্কুলের ডিন শেংলিন বেন
- উগান্ডার ইমার্জিং পাবলিক লিডারসের নির্বাহী পরিচালক আবিগাল কাজুম্বা
- ব্রাজিলের সাবেক অর্থমন্ত্রী জোয়াকিম লেভি
- ভারতের একস্টেপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শংকর মারুওয়াদা
- মিসরের সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী রানিয়া আল-মাশাত
- যুক্তরাজ্যের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ডেভিড মিলিব্যান্ড
- দক্ষিণ আফ্রিকার সান্দ্রা নাইকার এবং সেনেগালের দাউদা সেমবেনে
তামারা হাসান আবেদের ভূমিকা ও প্রভাব
তামারা হাসান আবেদ উন্নয়ন খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাজারভিত্তিক সমাধানকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তার নেতৃত্বে ব্র্যাকের সামাজিক উদ্যোগগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বিস্তৃত হয়েছে, যা বাংলাদেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করছে এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখছে। এই নিয়োগ সামাজিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব এবং ব্যবসায়িক উদ্ভাবনের মাধ্যমে উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
এটি বৈশ্বিক উন্নয়ন আলোচনায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেও তুলে ধরে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে উঠে আসা সমাধান বাস্তবায়নে ব্র্যাকের বিস্তৃত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি এই কোয়ালিশনের কার্যক্রমে তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কমিশনারদের কর্মপরিকল্পনা
আগামী এক বছরে কমিশনাররা সম্মিলিতভাবে দেশের অগ্রাধিকারের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারত্ব সমন্বয় করা, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য সরকারি ও বেসরকারি সম্পদ সংগ্রহ, নীতি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং উন্নয়নের প্রভাব বাড়াতে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবেন। আসন্ন বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের ‘স্প্রিং মিটিংসের’ সময় ওয়াশিংটনে কমিশনারদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এই কোয়ালিশনে জলবায়ু অর্থায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সুশাসন সংস্কার, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং বেসরকারি খাত উন্নয়নে দক্ষ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নেতৃবৃন্দ অংশ নিচ্ছেন, যা বৈশ্বিক উন্নয়ন সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



