ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার প্রস্তাব
ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রস্তাব

ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার প্রস্তাব

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেছেন, গণপরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ব্যবস্থায় যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে রিপোর্টার্স ফর রেল অ্যান্ড রোডের (আরআরআর) কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার বিস্তারিত

সাইফুল আলম উল্লেখ করেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্টসংখ্যক বাস, প্রশিক্ষিত চালক এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার অধীনে একটি কোম্পানির সেবা পরিচালনা করতে হবে। পরীক্ষামূলকভাবে একটি রুটে ২০০ থেকে ৫০০ বাস নিয়ে এ ধরনের সেবা চালু করার জন্য সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে যাত্রীরা নির্দিষ্ট স্টপেজে সারিবদ্ধভাবে ওঠা–নামা করবেন, ই-টিকিটিং চালু হবে এবং যানজট কমবে।

পরিবহন খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ

পরিবহন নেতা আরও বলেন, পরিবহন খাতটি এখনো পুরোপুরি নিয়মতান্ত্রিক হয়নি, যার ফলে যাত্রীসেবা, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যা রয়ে গেছে। তিনি সরকারের কাছে দুটি প্রধান সহায়তা চান: প্রশাসনিকভাবে কঠোর সিদ্ধান্ত ও তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব বাস আমদানিতে করছাড় বা প্রণোদনা দেওয়া।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইলেকট্রিক বাস ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা

সাইফুল আলম জানান, ঢাকায় ইলেকট্রিক বাস বা উন্নত মানের রিকন্ডিশন্ড বাস চালু করা গেলে সেবার মান বাড়বে এবং দূষণ কমবে। এ জন্য বাসের আমদানিনীতিতে কিছু শিথিলতা আনতে হবে। তিনি ঢাকার বিভিন্ন টার্মিনালে প্রয়োজনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বাস অবস্থান করাকে যানজটের একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ সমস্যার সমাধানে তিনি পর্যায়ক্রমভিত্তিক বাস পরিচালনার পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর মতে, নির্দিষ্টসংখ্যক বাস টার্মিনালে থাকবে, বাকিগুলো নিজস্ব ডিপো বা নির্ধারিত পার্কিংয়ে থাকবে। সরকার কোনো জায়গা ডিপো হিসেবে দিলে পরিবহনমালিকেরা ভাড়া বা টোল দিতে প্রস্তুত আছেন

অবৈধ কার্যক্রম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

টার্মিনাল এলাকা ও আশপাশে অবৈধ দোকান, টোকেন–বাণিজ্য এবং প্রভাবশালীদের দখলদারিকে বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে সাইফুল আলম বলেন, এসবের আড়ালে চাঁদাবাজি, টিকিট কালোবাজারি এবং যাত্রী হয়রানির ঘটনা ঘটছে। তিনি এসব অনিয়ম বন্ধে অভিযান চালানো এবং প্রশাসনের সহায়তায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানান।

পরিবহন নেতা ঢাকার বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বহুতল আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে সীমিত জায়গায় বেশি বাস ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব, এবং এ ক্ষেত্রে ৩০-৫০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

সাইফুল আলম স্বীকার করেন, পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিকদের মধ্যেও কিছু অনিয়ম রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু মালিকদের একার পক্ষে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়। পুলিশ, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

এ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেনসহ অন্য নেতারা। রিপোর্টার্স ফর রেল অ্যান্ড রোডের সদস্যরা নানা প্রশ্ন করেন এবং পরিবহন নেতারা এর জবাব দেন।