চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল ভোজ্যতেল জব্দ
চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ২২ হাজার ৬৪২ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০টা থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত র্যাব-৭ এর উপস্থিতিতে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানের নেতৃত্ব ও উদ্দেশ্য
অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিব শাহরিয়ার। বুধবার র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল মজুদ করে রেখেছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর অক্সিজেন মোড়, নাসিরাবাদ ও কর্ণফুলী কমপ্লেক্স এলাকায় জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআইয়ের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
প্রথম অভিযানের বিস্তারিত
অভিযানে নগরীর বায়েজিদ এলাকার গুলবাগ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত আমানত প্যাকেজিং অ্যান্ড মার্কেটিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআইয়ের সিএম সনদ ছাড়া ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল বোতলজাত ও বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া পণ্যের মোড়কে অবৈধভাবে মানচিহ্ন ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। প্রতিষ্ঠানের মালিক পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় ১ হাজার ৪২ লিটার ভোজ্যতেল, আনুমানিক ১০ হাজার পিস মোড়ক এবং খালি বোতল জব্দ করে বায়েজিদ থানা পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় অভিযানের ফলাফল
পৃথক অভিযানে নগরীর খুলশী থানাধীন দুই নম্বর গেট এলাকায় অবস্থিত মাবিয়া স্টোরে সরকারি লাইসেন্স ছাড়া প্রায় ৫০ ড্রাম ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুত রাখার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় খাজা স্টোরে লাইসেন্স থাকলেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তেল সংরক্ষণের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের ২১ হাজার ৬০০ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা
এ সময় বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগের কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আবদুর রহিম ও পরিদর্শক সাইদ আহমেদ তালুকদার প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া র্যাব কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই অভিযানটি ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট দূরীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



