বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন শিল্পে করের অতিরিক্ত বোঝা: এএএবি'র এনবিআর-এ চিঠি
বিজ্ঞাপন শিল্পে কর বোঝা বেড়েছে: এএএবি'র উদ্বেগ

বিজ্ঞাপন শিল্পে করের অতিরিক্ত বোঝা: এএএবি'র তীব্র উদ্বেগ

বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোর সমিতি (এএএবি) অভিযোগ করেছে, আয়কর আইন ও নিয়মে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে দেশের বিজ্ঞাপন শিল্পে করের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে, সংস্থাটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে সংশ্লিষ্ট নিয়মের তাৎক্ষণিক সংশোধন দাবি করে চিঠি লিখেছে।

এনবিআর-এ পাঠানো চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ

এনবিআর-এর প্রথম সচিব (কর)-এর কাছে পাঠানো সাম্প্রতিক এক চিঠিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এনবিআর সূত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৬ মে ২০২৫ তারিখে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে 'উৎসে কর কর্তন নিয়মাবলি, ২০২৪'-এ সংশোধন আনা হয়েছে।

পুরোনো ও নতুন নিয়মের পার্থক্য

পূর্ববর্তী নিয়ম অনুযায়ী, একটি বিজ্ঞাপন সংস্থাকে তার প্রাপ্ত কমিশন বা ফির উপর নির্ধারিত কর হার অথবা মোট বিলের একটি নির্দিষ্ট অংশের (যেমন ২.৫% থেকে ১০%) কর হার—যেটি বেশি হবে, সেটি উৎসে কর হিসেবে দিতে হতো। কিন্তু সংশোধিত নিয়মে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত কমিশনের উপর নির্ধারিত কর অথবা মোট বিলের উপর নির্ধারিত কর—যেটি বেশি হবে, সেটি প্রযোজ্য হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফলস্বরূপ, সংস্থাটি দাবি করছে, প্রকৃত আয়ের তুলনায় অনেক বেশি কর প্রদান করতে হচ্ছে। চিঠিতে একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যেখানে মিডিয়া সেবা ক্রয়ের জন্য পূর্বে উৎসে কর ছিল প্রায় ২৫০ টাকা, সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী তা বেড়ে ৬৫০ টাকা হয়েছে। একইভাবে, শিপিং ও হ্যান্ডলিং সেবার ক্ষেত্রে, যেখানে পূর্বে কর ছিল প্রায় ৫০০ টাকা, তা এখন বেড়ে প্রায় ৫,০০০ টাকা হয়েছে।

তরলতা সংকট ও উদ্যোক্তাদের উপর চাপ

এএএবি-এর মতে, এই অতিরিক্ত কর বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোর জন্য তীব্র তরলতা সংকট সৃষ্টি করছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলো বিশেষভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট প্রাপ্তির উপর লেনদেন কর ১% দ্বিগুণ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এটি খাতের ব্যয় বাড়িয়েছে এবং নতুন উদ্যোক্তারা এই খাতে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। দেশে প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা মূল্যের বিজ্ঞাপন শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এনবিআর-এর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংস্থাটি।

পূর্ববর্তী নিয়ম ফিরিয়ে আনার দাবি

এএএবি ২৯ মে ২০২৪ তারিখে জারি করা আয়কর নিয়মাবলির পূর্ববর্তী বিধান পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, নিয়মের এই সংশোধন রাজস্ব সংগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। বরং, এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই পরিবর্তন শিল্পের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে এএএবি। সংস্থাটি আশা করে, এনবিআর তাদের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।