নারী উদ্যোক্তার করোনাকালীন সংকট: ব্যবসা দখল ও মামলার বলি হয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন
নারী উদ্যোক্তার ব্যবসা দখল: করোনা সংকটে মামলার বলি

নারী উদ্যোক্তার করোনাকালীন দুর্ভোগ: ব্যবসা দখল ও মামলার বলি

ঢাকার সবুজবাগের এক নারী উদ্যোক্তা করোনা মহামারীর সময়ে আর্থিক সংকটে পড়ে তার গার্মেন্টস ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সংগ্রাম করছিলেন। ‘নিউ বিডি নীট গার্মেন্টস’ নামক এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলেও, করোনাকালীন অর্থনৈতিক চাপ তাকে বিপাকে ফেলে দেয়।

পার্টনার নেওয়া ও পরবর্তী ষড়যন্ত্র

ব্যাংক থেকে কোনো সহায়তা না পেয়ে, তিনি ব্যবসা বাঁচাতে সোয়াইব আহমেদকে শর্তসাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে পার্টনার হিসেবে নিযুক্ত করেন। তবে, এই সিদ্ধান্তই তার জন্য নতুন সমস্যার সূচনা করে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই পার্টনার তার স্বামী শামছুল ওয়াদুদ খোন্দকারের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যবসাটি দখলের চক্রান্তে লিপ্ত হন।

নারী উদ্যোক্তা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “করোনার সময়ে আমি খুব কষ্ট করে এই প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রেখেছি। কিন্তু, এখন তারা আমার প্রতিষ্ঠান দখল করে রেখেছে এবং আমাকে মামলা দিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বিরত রেখেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার স্বামী বিয়ের কথা অস্বীকার করছে, অথচ বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে ৭৯ লাখ টাকা নিয়েছে বলে দাবি করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার বলি ও আদালতের বারান্দায় ঘোরাঘুরি

এই দখল কাজে জড়িত হওয়ার অভিযোগে তিনি তার স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। এরপর থেকেই তার স্বামী ও ব্যবসায়ী পার্টনার দু’জন মিলে তাকে হেনস্থা করতে শুরু করে। ঢাকা, বগুড়া, জামালপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।

ফলে, মাসের প্রায় প্রতিটি দিন তাকে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমার মামলায় আসামিদের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাব দেখাচ্ছে, অথচ আমি বিএনপি পরিবারের সন্তান।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনজীবীর বক্তব্য ও বিচার চাওয়া

বাদীপক্ষের আইনজীবী সফিক জামান এই ঘটনাকে একটি গভীর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “গত ৫ আগস্ট পরবর্তী শিল্প-বাণিজ্য খাতের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে এই গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান জবরদখল করেছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ডজনখানেক মিথ্যা মামলার মাধ্যমে আমার মক্কেল বিচারিক ও হাজতি নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।”

নারী উদ্যোক্তা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এই ঘটনার দ্রুত বিচার চেয়ে আকুতি জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আদালতের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চক্রের শাস্তি নিশ্চিত হবে এবং তিনি তার বৈধ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি ফিরে পাবেন।