নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আত্মসাৎ ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা টাকা ফেরতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ব্যবসায়ী। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে জেলার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘রাহাবার এগ্রোর’ স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন রতন তার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ব্যবসার লেনদেনের এক পর্যায়ে পাওনা টাকা দিতে টালবাহানা শুরু করেন অভিযুক্ত মহাদেব চন্দ্র সাধু। প্রায় ১৫ কোটি টাকা ফেরত না দেওয়ায় ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
আদালতের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ
মামলার পর মহাদেব চন্দ্র সাধু ও অন্যান্য আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করে আদালত থেকে জামিন নেন। জামিনের শর্ত ছিল যে, তারা অবিলম্বে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করবেন এবং বাকি টাকা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বুঝিয়ে দেবেন। তবে ইসমাইল হোসেন রতন দাবি করেন, আদালতে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ করা হয়নি। উল্টো অভিযুক্তরা মামলা ও হুমকি দিয়ে তাকে হয়রানি করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল হোসেন রতন আরও জানান, মহাদেব চন্দ্র সাধু দীর্ঘদিন ধরে ‘রাহাবার এগ্রো’সহ দেশের অসংখ্য ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১১৬টি মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলোর মধ্যে হত্যা, ধর্ষণ, ও প্রতারণার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। ইতোমধ্যে ১২-১৩টি মামলায় আদালতের আদেশে সাজাপ্রাপ্ত আসামি মহাদেব।
মিথ্যা অপহরণ মামলা ও জেলের অভিজ্ঞতা
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতন অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা না দেওয়ার পাশাপাশি মহাদেব চন্দ্র সাধু মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানির কৌশল নিয়েছেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি মহাদেব সাধু তার ভাগ্নে শুভাশীষ এবং চক্রের অন্যান্যরা মিলে খুলনা থেকে একটি ‘সাজানো অপহরণ নাটক’ মঞ্চস্থ করেন। এই সাজানো ঘটনায় ‘রাহাবার এগ্রোর’ স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন রতনকে আসামি করে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।
এই মামলার ফলে তাকে ঈদের আগে ১০ দিন জেল খাটতে হয়েছে। জেল থেকে বের হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা সদর থানায় তার বিরুদ্ধে আবারও একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। ইসমাইল হোসেন রতন বলেন, “এতো বিপুল সংখ্যক মামলা এবং সাজা থাকা সত্ত্বেও মহাদেব চন্দ্র সাধু রহস্যজনকভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন এবং বহাল তবিয়তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।”
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর দাবি
এই পরিস্থিতিতে ইসমাইল হোসেন রতন অবিলম্বে পাওনা টাকা ফেরত এবং প্রতারকের শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে জোর দিয়ে বলেন, “আদালতের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে টাকা না দেওয়া এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা একটি গুরুতর অপরাধ। আমরা দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচার চাই।” তার মতে, মহাদেব চন্দ্র সাধুর মতো ব্যক্তিরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছেন, যা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশা করেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ এই মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।



