বাংলাদেশে বিওয়াইডির বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন ও সরবরাহ করবে রানার অটোমোবাইলস
বাংলাদেশের বাজারে চীনের বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি বিওয়াইডির বৈদ্যুতিক গাড়ি সরবরাহ ও উৎপাদন করবে রানার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলস পিএলসি। এ জন্য বিওয়াইডি অটো ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানির সঙ্গে একটি মাস্টার সাপ্লাই অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচার চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এই ঘোষণা দিয়েছে রানার অটোমোবাইলস পিএলসি, যা দেশের অটোমোবাইল শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চুক্তি অনুমোদন ও ব্যবসায়িক পর্যালোচনা
গত শুক্রবার (২০ মার্চ) রানার অটোমোবাইলসের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কোম্পানিটির বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতিও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিওয়াইডির সঙ্গে এই কৌশলগত অংশীদারত্ব স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদ অটোমোবাইল খাতে বিওয়াইডির বিশ্বব্যাপী সুনামের কথা উল্লেখ করে এই অংশীদারত্বের সম্ভাবনা ও ইতিবাচক প্রভাবের ওপর গভীর আস্থা ব্যক্ত করেছে।
শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব
এই ঘোষণার পর রানার অটোমোবাইলসের শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে ৩৭ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছেছে। পূর্ববর্তী সর্বশেষ দর ছিল ৩৪ টাকা ১০ পয়সা, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এই উত্থান বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও সম্ভাবনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশে বিওয়াইডির পদচারণা
২০২৪ সালে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) বিক্রি শুরু করে চীনের সুপরিচিত গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি বিওয়াইডি। সেই সময় থেকে বিওয়াইডির পরিবেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে সিজি–রানার বাংলাদেশ লিমিটেড, যা রানার গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে রানার অটোমোবাইলস সরবরাহ ও উৎপাদনের দায়িত্ব নেবে, যা দেশে স্থানীয় উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনের প্রসারে ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পে এই উদ্যোগটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের পথ সুগম করতে পারে। রানার গ্রুপের এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই পরিবহন খাত গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



