মানিকগঞ্জের পোশাক কারখানায় কোটি টাকার ডাকাতি, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার গভীর রাতে এই ঘটনা সংঘটিত হয়। ডাকাতরা কারখানার মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। আজ সোমবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ঘিওর উপজেলার পুখুরিয়া এলাকায় অবস্থিত অ্যাডভান্স অ্যাটায়ার লিমিটেড নামের এই কারখানাটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। কারখানাটি থেকে উৎপাদিত পোশাক সম্পূর্ণরূপে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। গত রোববার রাত দেড়টার দিকে প্রায় ২০ থেকে ২২ জনের একটি ডাকাত দল মুখোশ পরে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ধারালো অস্ত্র যেমন রামদা ও চাপাতি দেখিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ফেলে।
এরপর ডাকাতরা কারখানার সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন থেকে মূল্যবান তামার তার ও কম্পিউটার লুট করে নিয়ে যায়। কারখানার ভবনের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা গেছে। অফিস কক্ষ এবং সিসিটিভি ক্যামেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ ও সাক্ষীদের বক্তব্য
কারখানার ব্যবস্থাপক মশিউর রহমান জানান, সাব-স্টেশনের তামার তার এবং অন্যান্য মূল্যবান মালামাল ডাকাতরা লুট করে নিয়ে গেছে। তিনি অনুমান করেন যে লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। কারখানার এক কর্মী সুমন হোসেনসহ অন্যান্য সাক্ষীরা প্রথম আলোকে বলেন, ডাকাতরা সবাই মুখোশ পরে ছিল এবং তারা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে রেখেছিল।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি কারখানা পরিদর্শন করেছেন এবং ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলীসহ পুলিশ সদস্যরা আজ সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রভাব
এই ডাকাতি ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়িক পরিবেশে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কারখানাটি রপ্তানিমুখী হওয়ায় এই ঘটনা অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি করেছে। পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
ঘিওর উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই অপরাধীদের ধরা পড়বে এবং আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনা পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।



