ঈদের দিনেও দোকান খুলে আয়রোজগারের চেষ্টায় মেহেদী হাসান
ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পর ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লোকসমাগম শুরু হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেখানে চা, সিগারেট, বিস্কুট, পাউরুটি, কলা, পানি, কোমলপানীয় ও আইসক্রিম বিক্রির ক্ষুদ্র দোকান খুলেছেন মেহেদী হাসান নামের এক যুবক। ২৩ বছর বয়সী মেহেদী ভ্যানের আদলে স্টিল কাঠামোয় তৈরি দোকানটি পরিচালনা করছেন, সঙ্গে রয়েছেন তাঁর বাবা শফিকুল ইসলাম।
আর্থিক সংকটে বাড়ি না যাওয়ার সিদ্ধান্ত
মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাড়িতে গেলে এক হাজার টাকা ভাড়া লাগত। রোজার মাসে তেমন আয় হয়নি, টাকা নাই। তাই এবার আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাই নাই। ঈদের সময় বেচাকেনা ভালো হয়, সে জন্য কিছু আয়–রোজগারের আশায় ঢাকায় রয়ে গেছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই কারণে দুইবার মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে ঈদ করতে যাননি।
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও হতাশা
মেহেদীর মা সকালে ফোন করে বলেছেন, ‘বাড়ির মানুষ বাড়িতে না থাকলে ঈদ কইরা লাভ কী।’ এ কথা শুনে তাঁর গলা ভারী হয়ে আসে এবং চোখে–মুখে হতাশা ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আব্বা হইলো পরিবারের ছাতা। সে না গেলে আমি গিয়া কী লাভ? কষ্ট হইলেও আমি আর আব্বা এবার যাই নাই। এখানেই ঈদ করতেছি।’
দোকান পরিচালনা ও জীবনযাত্রা
প্রায় ছয় মাস ধরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দোকানটি চালাচ্ছেন মেহেদী। তিনি চা, সিগারেট, পাউরুটি, বিস্কুট, পানি ও কোমলপানীয় ইত্যাদি বিক্রি করেন। মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে আড়াই হাজার টাকা ভাড়ায় এক রুম নিয়ে বাবা–ছেলে একসঙ্গে থাকেন। মেহেদীর বাবা শফিকুল ইসলাম বেকারির পণ্য ডেলিভারির কাজ করেন এবং ঈদে কাজের জন্য ঢাকায় থাকতে হয় বলে পরিবার ছাড়াই ঈদ করছেন।
অতীতের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রায় তিন বছর আগে ঢাকায় আসেন মেহেদী, যখন তাঁর বাবার হার্টে ব্লক ধরা পড়ে এবং তিনি বাবার ডেলিভারির কাজটি করেন। পরে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করলেও বেতন কম হওয়ায় তা ছেড়ে দেন। বাবার এক বন্ধু এই দোকানটি মেহেদীকে দিয়ে যান, যা তিনি এখন চালাচ্ছেন। সামনে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দোকান করা যাবে না, তাই তিনি যে কদিন বন্ধ আছে, দোকান খোলা রাখতে চান এবং কিছু আয় হলে তারপর বাড়িতে যাবেন।



