ঈদের সকালে ঢাকার সড়কে অপ্রত্যাশিত গণপরিবহনের চলাচল
পবিত্র ঈদুল ফিতরের চিরাচরিত সকালে রাজধানী ঢাকা সাধারণত নিঝুম ও জনশূন্য থাকে, যেখানে রাজপথে বাসের দেখা মেলা ভার হয়ে পড়ে। তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের সকালে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহনের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। চিরচেনা সেই সুনসান নীরবতা ভেঙে হর্ন বাজিয়ে বাস চলছে, আর সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যদিও যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, তবুও যান্ত্রিক নগরের চাকা একেবারেই থামেনি।
সরেজমিনে দেখা গেল গণপরিবহনের সরব উপস্থিতি
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত মোড় গুলিস্তান থেকে মিরপুর, শাহবাগ, ফার্মগেট ও গাবতলী অভিমুখী বাসগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও, রামপুরা, বাড্ডা কিংবা আবদুল্লাহপুর রুটের গাড়িগুলোও পিছিয়ে নেই। দক্ষিণ ও পূর্ব ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সায়দাবাদ ও সাইনবোর্ড এলাকাতেও গণপরিবহনের সরব উপস্থিতি চোখে পড়েছে।
পরিবহন শ্রমিকদের কষ্টের গল্প
মিরপুর রুটে চলাচলকারী শিকড় পরিবহনের চালক ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে কথা হলে, একরাশ ক্লান্ত হাসিতে তিনি জানান, আজ ভোর ৬টাতেই গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন তিনি। ঈদের সকালে রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা, যাত্রীও সামান্য। তবে তার আশা, ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পর মানুষের আনাগোনা বাড়বে, বাড়বে যাত্রীর চাপও। উৎসবের দিনে রাস্তায় কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বাসচালক ইব্রাহিম বলেন, “আমাদের তো ঈদ নাই, উৎসবও নাই। পেটের দায়ে স্টিয়ারিং ধরতে হয়। স্ত্রী-সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কিনে দিয়েছি, কিন্তু নিজের জন্য এবারও কিছু কেনা হয়নি।”
তার মতো হাজারো পরিবহন শ্রমিকের কাছে ঈদ মানে তপ্ত পিচঢালা সড়কে বেঁচে থাকার লড়াই। তারা পরিবারের দায়িত্ব পালনের জন্য এই কঠিন পরিশ্রম করে চলেছেন, উৎসবের আনন্দ থেকে অনেক দূরে।
দুপুরের পর বাড়বে যাত্রী ও চাহিদা
সংশ্লিষ্টদের ধারণা অনুযায়ী, দুপুরের পর থেকে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো কেন্দ্র করে মানুষের ভিড় বাড়বে। তখন গণপরিবহনের চাহিদা ও যাত্রী—উভয়ই কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। এই অবস্থা পরিবহন শ্রমিকদের জন্য আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে, তবে তাদের আয়ও কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এভাবে, ঈদের দিনেও ঢাকার সড়কে গণপরিবহনের সচলতা শহরের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও শ্রমিকদের সংগ্রামের একটি জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।



