ইউনিলিভার বাংলাদেশের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে কোনো পুনর্গঠন নেই: কোম্পানির স্পষ্ট বক্তব্য
ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে যে তাদের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে কোনো ধরনের পুনর্গঠন কার্যক্রম বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে না এবং এ সংক্রান্ত খবর সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও সঠিক নয়।
আইনি বিরোধের প্রকৃত চিত্র
ইউবিএলের প্রাক্তন ডিস্ট্রিবিউটর অগ্রণী ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড এবং মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের সঙ্গে কোম্পানির আইনি বিরোধ চলমান রয়েছে। তবে এই বিরোধটি শুধুমাত্র ঢাকার একটি সীমিত ডিস্ট্রিবিউশন এলাকা নিয়ে সীমাবদ্ধ। সমগ্র বাংলাদেশজুড়ে বিস্তৃত ইউবিএলের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্নভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে কোম্পানি নিশ্চিত করেছে।
প্রাক্তন ডিস্ট্রিবিউটররা তাদের ডিস্ট্রিবিউটরশিপ আইনানুগভাবে সমাপ্তির পর ইউবিএলের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি কার্যক্রম শুরু করে। ঢাকা ২য় অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের মধ্যস্থতা মামলাগুলোতে আদালত ইউবিএলের অনুকূলে আদেশ প্রদান করেছেন, যেখানে ডিস্ট্রিবিউটরশিপ বাতিলের বৈধতা এবং নতুন ডিস্ট্রিবিউটর নিয়োগের আইনানুগতা বহাল রাখা হয়েছে।
আদালতের বিভিন্ন রায় ও কার্যক্রম
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাক্তন ডিস্ট্রিবিউটররা হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন মামলা দায়ের করে আদেশ চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করেছে। তবে ইউবিএল স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা এ ধরনের কোনো শুনানিতে অংশগ্রহণ করেনি এবং হাইকোর্ট বিভাগ বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা প্রত্যয়িত অনুলিপি পায়নি।
পূর্ববর্তী ক্রিমিনাল কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে, সিআর মামলা নং ৩৬৩/২০২৫-এ ইউনিলিভার বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্স কর্তৃক জামিন আদেশ চ্যালেঞ্জ করা হলে, ঢাকার দায়রা জজ আদালত পরবর্তীতে সেই জামিন আদেশগুলো বহাল রাখেন।
এছাড়াও, অগ্রণী ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড কর্তৃক দায়েরকৃত একটি সিআর মামলায়, ওয়ারী থানা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোকে প্রাথমিকভাবে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোম্পানির ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
চলমান ঈদ ও সরকারি ছুটির কারণে ইউবিএলের কার্যালয় ২৩ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। কার্যালয় পুনরায় চালু হওয়ার পর কোম্পানি দ্রুত তাদের আইনজীবীদের সম্পৃক্ত করে বিষয়টি যাচাই করবে, প্রাসঙ্গিক আনুষ্ঠানিক আদেশ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করবে এবং পরবর্তী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ইউবিএল জানিয়েছে যে তাদের সব ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ডিস্ট্রিবিউটর ব্যবস্থাপনা প্রযোজ্য আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়েছে। যেহেতু আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি, তাই এই বিষয়ে আরও মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
কোম্পানিটি সর্বোচ্চ সততা, আইনগত সম্মতি এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোক্তা, অংশীদার ও স্টেকহোল্ডারদের প্রতি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও ব্যবসায়িক নৈতিকতা বজায় রেখে সেবা প্রদান অব্যাহত রাখবে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড।



