ঈদে আতর ও টুপির চাহিদা বাড়ছে, আল হারামাইনের শেখ আতরের দাম ৪৭ হাজার টাকা
ঈদে আতর-টুপির চাহিদা, আল হারামাইনে শেখ আতর ৪৭ হাজার টাকা

ঈদে আতর ও টুপির চাহিদা বাড়ছে, আল হারামাইনের শেখ আতরের দাম ৪৭ হাজার টাকা

ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে পোশাক ও জুতা কেনার পর এবার আনুষঙ্গিক সামগ্রীর পালা শুরু হয়েছে। এই সময়ে আতর ও টুপির চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ঈদের কেনাকাটাকে পূর্ণতা দেয়। রাজধানীর বিভিন্ন দোকানে দুই–চার দিন ধরে সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিশেষ করে আতর ও টুপির দোকানগুলোতে।

আল হারামাইনের দামি আতর শেখ

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দামি আতরের ব্র্যান্ড আল হারামাইন। বসুন্ধরা শপিং মল, এয়ারপোর্টের সেন্টার পয়েন্টসহ রাজধানীর অভিজাত বিপণিবিতানে আল হারামাইনের বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার টাকার আতর পাওয়া যাচ্ছে। ৬০ এমএল বোতলের এই প্রিমিয়াম উদের সৌরভে তৈরি আতরের নাম শেখ। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অর্ডার করলে এর চেয়েও দামি আতর বিদেশ থেকে আনা সম্ভব।

এছাড়া, আল হারামাইনের বিক্রয়কেন্দ্রে খোলা আতর বিক্রি করা হয়, যেগুলো বড় বোতল থেকে ছোট শিশিতে ঢেলে দেওয়া হয়। এসব আতরের মধ্যে রয়েছে পাম বিচ, অর্কিড ফ্লাওয়ার, বডি মাস্ক মালিকি, ১০০০ ফ্লাওয়ার, সুলতান প্রিমিয়াম ও ওয়ার্দ ইস্তানবুলিসহ বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি। এসব আতরের ১ এমএলের দাম ২৬৬ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত।

প্রিয়জনকে উপহার হিসেবে দেওয়ার জন্য আল হারামাইনে ৮ থেকে ১০ ধরনের আতরের ‘গিফট বক্স’ রয়েছে, যার দাম ৭ হাজার থেকে ২৯ হাজার টাকা। জনপ্রিয় আতর সিরিজের মধ্যে মাস্ক, অ্যাম্বার, উদ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

বায়তুল মোকাররম মার্কেটে টুপির বাজার

আতরের পাশাপাশি টুপির চাহিদাও ঈদে বেড়েছে। রাজধানীতে আতর ও টুপির জন্য বিখ্যাত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম–সংলগ্ন মার্কেটে ৫০টির বেশি দোকান রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এই মার্কেটে দেখা গেছে, অনেকেই পরিবারের পুরুষ সদস্য ও শিশুদের জন্য টুপি কিনতে এসেছেন, আবার কেউ কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আতর কেনার উদ্দেশ্যে ভিড় জমিয়েছেন।

এই মার্কেটে ‘পাকিস্তানি টুপি’ হিসেবে পরিচিত একধরনের টুপি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, যার দাম এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। তবে সবচেয়ে দামি টুপি হলো ব্রুনেই টুপি, যার দাম দুই হাজার টাকা। গোলাকার আকৃতির এই টুপির মাঝখান কিছুটা গম্বুজের মতো উঁচু এবং হাতে সুতা দিয়ে কাজ করা বলে এর দাম বেশি।

এছাড়া, রুমি টুপি, ওমানি টুপি, সৌদি টুপি, আফগান টুপি, ইন্দোনেশিয়ান টুপি ও পাকিস্তানি সিন্দি টুপির মতো দামি টুপিও পাওয়া যায়, যার দাম ৪০০ থেকে দেড় হাজার টাকা। পাকিস্তানি জুনায়েদ জামশেদ টুপির চাহিদা বেশি, যার দাম ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা।

শান্তিনগর থেকে বায়তুল মোকাররমে নাতিকে নিয়ে টুপি ও আতর কিনতে আসা লতিফুল ইসলাম বলেন, ‘এই মার্কেটে টুপির দাম কম। নাতির আগ্রহ থেকে এখানে টুপি কিনতে এসেছি।’ তিনি ১ হাজার ২০০ টাকায় পাকিস্তানি জুনায়েদ জামশেদ ও একটি জালি টুপি কিনেছেন।

আতরের বাজার ও দরদাম

বায়তুল মোকাররম মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মতে, কয়েক বছরের মধ্যে এবারই আতরের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের সুগন্ধির আদলে তৈরি অনেক আতর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, যা মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছে। তাই বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ব্যবসা ভালো চলছে।

রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় মসজিদ–মাদ্রাসাকেন্দ্রিক অস্থায়ী দোকানেও আতর বিক্রি হয়, যেখানে সাধারণ মানের আতর ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় পাওয়া যায়। বাজারে কস্তুরি, মুস্তাহ আল তাহারা, মেসকাম্বার, কিসওয়াত আল কাবা, সাত সাফা, রয়্যাল প্রোফেসি, কুল ওয়াটার, আল অ্যারাবিয়া, সুলতান, কিং হোয়াইট ও হাজরে আসওয়াদ ব্র্যান্ডের বিদেশি আতর বেশি পরিচিত।

দেশীয় আতরের ব্র্যান্ড আলিফ ও আল ফারহানও রয়েছে, যার দাম ১০০ থেকে ৮ হাজার টাকা। আতর সংরক্ষণের কাচ ও ধাতুর তৈরি বোতল বা দানির দাম ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা।

বায়তুল মোকাররম মার্কেটের ইউসুফ আতর হাউজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘রোজার শেষ দিকে এসে আতর ও টুপির চাহিদা বেড়ে যায়। গত বছরের তুলনায় এবার আতরের বেচাকেনা ভালো।’