নোয়াখালীতে ঈদ বাজারে স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা ফুটপাতের দোকান
নোয়াখালীতে ঈদ বাজারে ফুটপাতের দোকানে ভিড়

নোয়াখালীতে ঈদ বাজারে স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা ফুটপাতের দোকান

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী ও চৌমুহনীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঈদ বাজার জমে উঠেছে। শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান, সবখানেই ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতকাল সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিপণিবিতানগুলোতে ঈদের কেনাকাটা তুঙ্গে, তবে ফুটপাতের দোকানগুলোতেই স্বল্প আয়ের মানুষের প্রধান সমাগম ঘটেছে।

ফুটপাতের দোকানই স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা

নির্মাণশ্রমিক মো. রফিক (৫৫) বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে নিজের জন্য কিছু না কিনলেও হোক, সন্তানদের জন্য তো কিছু না কিছু কিনতে হয়। তাদের কিছু না দিলে মন খারাপ লাগে। নিজের কাছেও খারাপ লাগে। বড় মার্কেটে কেনার সামর্থ্য নেই। তাই ফুটপাতের দোকানই ভরসা।’ তাঁর মতো অনেক স্বল্প আয়ের মানুষই ঈদের কেনাকাটার জন্য ফুটপাতের দোকানগুলোর উপর নির্ভরশীল, যা প্রতিদিনই জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভিড় বাড়াচ্ছে।

দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বিপণিবিতানগুলোতে ঈদ উপলক্ষে বাড়তি আলোকসজ্জা করা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি নানা পোশাকের পসরা সাজানো হয়েছে। তবে দাম নিয়ে রয়েছে বিভ্রান্তি। গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম অনেক বেশি। সন্তানের পছন্দের কারণে বেশি দাম দিয়েই কিনতে হয়েছে। অনেক দোকানে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দাম চাওয়া হচ্ছে।’ অন্যদিকে, নোয়াখালী সুপারমার্কেটের দোকানি সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা কম এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে প্রবাসী টাকা পাঠাতে না পারায় কেনাকাটায় প্রভাব পড়েছে। ফুটপাতের দোকানি শাহ আলম বলেন, ‘আমাদের ক্রেতারা মূলত নিম্ন আয়ের মানুষ, তাই দামাদামি বেশি হয়। তবু তুলনামূলক কম লাভে বিক্রি করার চেষ্টা করি, যাতে কেউ খালি হাতে ফিরে না যায়।’

প্রশাসনের নিরাপত্তা জোরদার

ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। শহরের বড় বাজার ও শপিং মলগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘ঈদে ক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন, এ কারণে বড় বিপণিবিতান ও শপিং মলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দারাও দায়িত্ব পালন করছেন।’ এই ব্যবস্থা ক্রেতাদের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি জাগিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, নোয়াখালীর ঈদ বাজার একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যেখানে স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সব শ্রেণির ক্রেতারা অংশ নিচ্ছেন। ফুটপাতের দোকানগুলোর গুরুত্ব এই সময়ে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।