ঈদে জুতা বাজারে ব্র্যান্ডের বিক্রি বাড়লেও এলিফ্যান্ট রোডে মন্দার ছোঁয়া
ঈদে জুতা বাজারে ব্র্যান্ডের বিক্রি বাড়লেও এলিফ্যান্ট রোডে মন্দা

ঈদে জুতা বাজারে ব্র্যান্ডের বিক্রি বাড়লেও এলিফ্যান্ট রোডে মন্দার ছোঁয়া

ঈদুল ফিতরের আগে নতুন পোশাকের সঙ্গে জুতা কেনার রেওয়াজ বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের। তবে এবারের ঈদে জুতা বাজারের চিত্র কিছুটা বৈচিত্র্যময়। গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ব্র্যান্ডের জুতার দোকানগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় জমে উঠলেও এলিফ্যান্ট রোডের নন-ব্র্যান্ড দোকানগুলো মন্দা ভুগছে।

ব্র্যান্ডের দোকানে বিক্রি বৃদ্ধি

ব্র্যান্ডের জুতার দোকানগুলোতে ঈদ উপলক্ষে বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অ্যাপেক্স, বাটা, লোটো, বে, ওরিয়নের মতো প্রসিদ্ধ ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রয়কেন্দ্রে সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের বসুন্ধরা শপিং সেন্টারের বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মেহেদি হাসান বলেন, "গত বছরের তুলনায় আমাদের এখানে বিক্রি ২১ শতাংশ বেড়েছে। ঈদ মৌসুমে প্রতিদিন আমরা এক কোটি টাকার বেশি জুতা বিক্রি করছি।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নারীদের জুতার চাহিদা বেশি

বিক্রেতারা জানান, পুরুষদের চেয়ে নারীদের জুতার চাহিদা এবার বেশি দেখা যাচ্ছে। বে ব্র্যান্ডের বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক মো. ঈমাম হাসান উল্লেখ করেন, "এবার নারীদের জুতার বিক্রি প্রায় ৪৬ শতাংশ বেড়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি।"

এলিফ্যান্ট রোডে মন্দার ছায়া

অন্যদিকে, রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত নন-ব্র্যান্ড জুতার দোকানগুলো এবার মন্দা পরিস্থিতির মুখোমুখি। এই এলাকায় ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড মিলিয়ে প্রায় ২০০-২৫০টি দোকান রয়েছে, কিন্তু সোমবার সকালে ক্রেতাদের ভিড় তেমন দেখা যায়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আয়শা ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপক মেরাজুল ইসলাম বলেন, "এলিফ্যান্ট রোডের দোকানগুলো একসময় ঈদ মৌসুমে দম ফেলার সুযোগ পেত না, কিন্তু এখন সেই জৌলুশ অনেকটাই কমে গেছে। আমরা এবার ১৭ লাখ টাকার জুতা তোলা হয়েছিল, কিন্তু এখনো ১০ লাখ টাকার জুতা বিক্রি হয়নি।"

১৯৭২ সাল থেকে জুতা বিক্রি করা মেসার্স দীপালি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ খোকন যোগ করেন, "একসময় ঈদে প্রতিদিন এক লাখ টাকার বেশি বিক্রি হতো, এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।"

জুতা বাজারের আকার ও প্রবণতা

দেশে জুতার বাজার ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়, যার ৩০ শতাংশের বেশি ব্র্যান্ডের জুতার দখলে। বাকি অংশ নন-ব্র্যান্ড, আঞ্চলিক ব্র্যান্ড ও আমদানি করা জুতার মধ্যে বণ্টিত। ব্র্যান্ডের জুতা বিক্রি প্রতিবছর ১০-১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে, এবং সারা বছরের বিক্রির প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ ঈদুল ফিতরের সময় হয়ে থাকে।

এ কারণে ঈদে ব্র্যান্ডগুলো নতুন নকশার জুতা আনে এবং নানা ছাড় দেয়। উদাহরণস্বরূপ, অ্যাপেক্স এবার ঈদ সামনে রেখে দুই হাজারের বেশি নকশার জুতা নিয়ে এসেছে, এবং তাদের ২৫০টির বেশি নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ব্যবসায়ীরা মনে করেন, ক্রেতাদের রুচি ও ক্রয়ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্র্যান্ডের জুতার দিকে ঝোঁক বাড়ছে। তবে এলিফ্যান্ট রোডের মতো ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলোকে টিকিয়ে রাখতে নতুন কৌশল প্রয়োজন হতে পারে। ঈদ উপলক্ষে জুতা কেনার এই চিত্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবণতা ও ভোক্তা আচরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে।