টার্নওভার ট্যাক্স হ্রাসের দাবিতে সোচ্চার ব্যবসায়ীরা
বাংলাদেশের আধুনিক রিটেইল মার্কেট বা সুপারশপ খাতের সম্প্রসারণে বর্তমান টার্নওভার ট্যাক্স একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কর ব্যবস্থা খাতের উন্নয়ন ও নতুন বিনিয়োগে সমস্যা সৃষ্টি করছে। যদিও বর্তমানে মোট লেনদেনের ওপর ১ শতাংশ হারে টার্নওভার ট্যাক্স প্রদান করতে হয়, তবুও অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে থাকা সত্ত্বেও এই কর দিতে বাধ্য হচ্ছে।
গোলটেবিল বৈঠকে উঠে আসা দাবি
সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীতে “বাংলাদেশের আধুনিক রিটেইল খাতের উন্নয়ন: বাধা, উত্তরণের পথ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচনায় আসে। বাংলাদেশ সুপারমার্কেট মালিক সমিতি এই বৈঠকের আয়োজন করে এবং এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেড সহযোগিতা প্রদান করে। বৈঠকের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।
এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের রিটেইল মার্কেটের আকার প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই খাত সরাসরি ১৭,৫০০-এর বেশি মানুষকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে। আধুনিক সুপারশপগুলো কোল্ড-চেইন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খাদ্য নষ্ট হওয়া রোধ এবং নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রতিবেশী দেশের তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ সুপারমার্কেট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, নীতিগত সহায়তার কারণে প্রতিবেশী ভারতের সুপারশপ খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে সেদেশের মোট রিটেইল বিক্রয়ের প্রায় ১৫ শতাংশ সুপারশপের মাধ্যমে হয়, অন্যদিকে বাংলাদেশে এই হার মাত্র ৩ শতাংশ। যদিও দেশে সুপারশপ যাত্রা শুরু হয় ২০০১ সালে, তবুও অনেক প্রতিষ্ঠানকে এখনও ভর্তুকি নিয়ে পরিচালনা করতে হয়।
সুপারশপ চেইন শুভপ্নোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান বলেন, যদি তারা নীতিগত সহায়তা পেতেন, তাহলে সুপারশপগুলো জেলা ও শহর পর্যায়ের বাইরে উপজেলা পর্যায়েও সম্প্রসারিত হতে পারত। “আমরা বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙতে ভূমিকা রেখেছি। শুরুতে কম দামে পণ্য বিক্রি করায় আমাদের হুমকির মুখোমুখি হতে হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, রমজানে বাজার দাম নিয়ন্ত্রণে কিছু পণ্য কম দামে বিক্রির উদ্যোগ তারা নিয়েছেন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বাজারে চিনির দাম কেজি প্রতি ১০৫ টাকা হলেও শুভপ্নোতে ৯৭ থেকে ৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সুপারিশ
বৈঠকে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাসুদ খান, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. কাওসার আলম, এনবিআরের সাবেক সদস্য (কর নীতি) অপুর্ব কান্তি দাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, যদি আধুনিক রিটেইল মার্কেট খাত শক্তিশালী করা হয়, তাহলে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে, খাদ্য নষ্ট হওয়া কমবে এবং ভোক্তারা সহজেই নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য পেতে সক্ষম হবেন। এজন্য সরকারের কর নীতি ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে এই খাতের উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তারা টার্নওভার ট্যাক্সের হার ১.২৫ শতাংশে কমানোর জোরালো দাবি জানান, যা খাতের টেকসই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে তাদের বিশ্বাস।
