বিকেএমইএ সভাপতির দাবি: যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি অসম ও অনৈতিক
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি অসম: বিকেএমইএ সভাপতি

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তিকে অসম ও অনৈতিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আজ রোববার রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে সরকারের প্রতি এই চুক্তি পুনর্বিবেচনার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

চুক্তির শর্ত নিয়ে প্রশ্ন

মোহাম্মদ হাতেম তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, 'চুক্তিতে বলা আছে, যুক্তরাষ্ট্র কোথাও নিষেধাজ্ঞা দিলে, তা আমাদের মানতে হবে। এখন তারা আর ইসরায়েল মিলে মধ্যপ্রাচ্যে অত্যাচার চালাচ্ছে। আবার তারা যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে উঠিয়ে নিয়ে এসেছে, সেটাও কি আমাদের মানতে হবে।' তিনি এই ধরনের শর্তাবলিকে স্পষ্টভাবে অনৈতিক হিসেবে চিহ্নিত করেন।

তিনি আরও বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক বাতিল হওয়ায় এখন সবার ওপর সমান ১৫ শতাংশ শুল্ক। তাহলে এখানে আমাদের বাড়তি সুবিধা কোথায়? কেবল দেশটি থেকে সুতা আমদানি করলে সুবিধা আছে; কিন্তু এই সুবিধার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় শর্ত মানব কেন?' এ কারণে তিনি নতুন সরকারের কাছে চুক্তি পর্যালোচনার সুপারিশ করেন।

অর্থনীতিবিদদের মতামত

পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা আলোচনা করেন। জাইদি সাত্তার মন্তব্য করেন যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুতা আমদানি করে পোশাক উৎপাদন করে সে দেশে রপ্তানি করলে যে শুল্ক-সুবিধা পাওয়া যাবে, তা ইতিবাচক দিক।

রপ্তানির নাজুক অবস্থা

মোহাম্মদ হাতেম রপ্তানি খাতের বর্তমান সংকটের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো টানা সাত মাস রপ্তানি নেতিবাচক ছিল না। হয়তো দুই-তিন মাস এমনটা হয়েছে। তাঁর মতে, আগামী জুন পর্যন্ত রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এই নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে ব্যবসায়ী মহলের ধারণা। তবে এরপর যে রপ্তানি ইতিবাচক হবে, তেমন কোনো পূর্বাভাস নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেন এবং বাণিজ্য নীতির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।