ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে ১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ চাইল বিজিএমইএ
বিজিএমইএর ঋণ দাবি: ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতনের জন্য ১৪ হাজার কোটি

ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে ১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ চাইল বিজিএমইএ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সহজ শর্তে ঋণসুবিধা চেয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এর নেতারা। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি তুলে ধরেন।

বৈঠকে ঋণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ

বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান ও সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গভর্নরকে একটি চিঠি প্রদান করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে মাসিক প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হয়। সেই হিসাবে ঈদের আগে দুই মাসের সমপরিমাণ অর্থ, অর্থাৎ প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণসুবিধার প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়।

রপ্তানি হ্রাস ও তারল্যসংকটের প্রেক্ষাপট

চিঠিতে গত সাত মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি ও কেজিপ্রতি দাম কমে যাওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। বলা হয়, রপ্তানি কমে আসার পাশাপাশি নতুন ক্রয়াদেশে শ্লথগতি দেখা যাচ্ছে, এমনকি ক্রয়াদেশ পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ঈদের আগে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বোনাস, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল ও অন্যান্য খরচ পরিশোধ করতে গিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে, যা তারল্যসংকট তৈরি করেছে।

ইনামুল হক খানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে আরও বলা হয়, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কারখানা খোলা থাকবে মাত্র ৩৫ দিন, অথচ মার্চ মাসে নিয়মিত মজুরির পাশাপাশি ঈদ বোনাস ও মার্চ মাসের ৫০ শতাংশ মজুরি পরিশোধ করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে চলমান তারল্যসংকটের ফলে মজুরি পরিশোধে ব্যর্থতা ও শ্রম অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অন্যান্য দাবি ও গভর্নরের প্রতিক্রিয়া

বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা মজুরির জন্য সহজ শর্তে ঋণের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন:

  • চলতি অর্থবছরের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের বকেয়া ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করার অনুরোধ।
  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে আটকে থাকা নগদ সহায়তার অর্থ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছাড় করার অনুরোধ।
  • প্যাকিং ক্রেডিটের (পিসি) আওতায় ঋণসহায়তা পুনরায় চালু ও সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা।
  • প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট স্কিমের তহবিল ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করা এবং তহবিলের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো।

বিজিএমইএ নেতারা গভর্নরকে বলেন, সময়মতো শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করা শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিজিএমইএর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, গভর্নর তাদের বক্তব্য শোনার পর তৈরি পোশাকশিল্পের সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে ঈদের আগে শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি ও ব্যাংকিং সহায়তা কতটা কার্যকর হবে, তা এখন দেখার অপেক্ষা।