পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ফুল নিতে অস্বীকৃতি, বললেন 'কাজ বেশি, কথা কম'
পরিকল্পনামন্ত্রী ফুল নিতে অস্বীকৃতি জানালেন

পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ফুল নিতে অস্বীকৃতি, বললেন 'কথা কম, কাজ বেশি'

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম দিন অফিসে এসে সচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যদের ফুলের শুভেচ্ছা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি ব্যতিক্রমী ও কাজের প্রতি মনোনিবেশের ঘোষণা দিয়েছেন, যা গতানুগতিক রাজনৈতিক রীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত বহন করে।

মন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মকাণ্ড

রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দুপুর ২টায় মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত হন। এটি ছিল তার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো মন্ত্রণালয়ে অফিস করা। এ সময় সচিব এস এম শাকিল আখতার ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এরপর অফিস থেকে বেরিয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে যাওয়ার পথে মন্ত্রী যুগান্তরকে বলেন, 'আমি ও আমরা ব্যতিক্রমী কিছু করতে চাই। এজন্য গতানুগতিকতার বাইরে চিন্তা করছি। আমরা কথাবার্তা কম বলে কাজ বেশি করতে চাই।'

মন্ত্রীর ব্যাখ্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেন, 'ফুল নেওয়ার চেয়ে আমি কাজ করতে বেশি পছন্দ করি। তাই সচিবদের ফুলের শুভেচ্ছা নেইনি। অতীতের সরকারতো এসব করতো। আমরাও যদি এসব করি তাহলে কেমন করে হবে।' তিনি আরও যোগ করেন যে, তার দায়িত্ব নেয়ার মাত্র দুই দিন হয়েছে এবং তিনি সময় নিয়ে সবকিছু রিভিউ করার পর কথা বলতে চান।

আসন্ন পরিকল্পনা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'আমরা কথাবার্তা কম বলে কাজ বেশি করতে চাই। দায়িত্ব নেয়ার মাত্র দুই দিন হলো। আমি সময় নিয়ে কথা বলি। আজকে প্রথম মন্ত্রণালয়ে আসলাম। সবকিছু রিভিউ করি তারপরে কথা বলি। আমরা কাজে বিশ্বাসী।'

আগামীর পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি কথা কম বলি কাজ বেশি করি। সবেমাত্র এখানে এসে বসলাম। আমার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে সবকিছু জানি, তারপর কথা বলি। আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিতে চাই।' মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে তিনি প্রেস-ফ্রেন্ডলি এবং সময়মতো সবকিছু জানাতে চান, তবে আগে রিভিউ করার পরেই কথা বলবেন।

উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ

এসময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার প্রমুখ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি মন্ত্রীর প্রথম দিনের কার্যক্রমকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

মন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য সরকারি কাজে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।