টিসিবির কার্যক্রমে নাগরিক কমিটি গঠন ও ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ঘোষণা
টিসিবিতে নাগরিক কমিটি গঠন ও ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক

টিসিবির কার্যক্রমে নাগরিক কমিটি গঠন ও ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ঘোষণা

সিলেটে সরকারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভ্রাম্যমাণ ট্রাক সেল কার্যক্রম পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, টিসিবির কার্যক্রমে ভবিষ্যতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা হবে। এ জন্য প্রতি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক নাগরিক কমিটি গঠন করা হবে, যা টিসিবির সুষ্ঠু ও সুন্দর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

নাগরিক কমিটির ভূমিকা ও টিসিবির পণ্য সরবরাহ

বাণিজ্যমন্ত্রী শনিবার বিকেলে সিলেটের লাক্কাতুরা এলাকায় টিসিবির ট্রাক সেল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বলেন, 'টিসিবির কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বাস্তবায়নে যাতে কোনো অনিয়ম না হয়, সেটি নিশ্চিত করবে নাগরিক কমিটি। টিসিবির পণ্য সরবরাহ যেন জন আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয়, সেটি আমরা নিশ্চিত করব।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পবিত্র রমজান উপলক্ষে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রির এই উদ্যোগে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পরিদর্শনে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

এই বিক্রয় কাজ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সাল আজাদ, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তাদের উপস্থিতি এই কার্যক্রমের গুরুত্ব ও স্বচ্ছতা তুলে ধরে।

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক

এদিকে, শনিবার বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে বাণিজ্য ও শিল্প খাতে এই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে উভয় দেশ নিরলস কাজ করছে।' তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সিলেটের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই আলোচনা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক বন্ধন জোরদার

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাসও দুই দেশের অর্থনৈতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই বৈঠকটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এটি শুধু বাণিজ্যিক সহযোগিতা নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের দিকেও ইঙ্গিত করে।

সিলেটে টিসিবির এই উদ্যোগ এবং ভারতের সঙ্গে বৈঠক স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে পারে। নাগরিক কমিটি গঠনের মাধ্যমে টিসিবির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো হবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে।