বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদিরের স্বীকারোক্তি: দেশের অর্থনীতিতে পর্বতপ্রমাণ চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগ স্থবিরতা প্রকট
মুক্তাদির: অর্থনীতিতে পর্বতপ্রমাণ চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগ স্থবিরতা প্রকট

বাণিজ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি: দেশের অর্থনীতিতে বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছেন যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে পর্বতপ্রমাণ অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়গুলোর সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মন্ত্রী দাবি করেছেন যে ইতোমধ্যে এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ শুরু করা হয়েছে এবং আগামী দিনে কাজের মধ্য দিয়েই তাদের চেষ্টার প্রতিফলন জনগণ দেখতে পাবেন।

শুক্রবার সিলেটে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় মন্ত্রীর বক্তব্য

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের দরগাহ হযরত শাহজালাল (রহ) মসজিদে জুমার নামাজ আদায় ও কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "গত দেড় দশকে দেশের বাণিজ্যিক অবকাঠামো ও ইকোসিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতকে বিপর্যস্ত করা হয়েছে। অর্থনীতির মধ্যে গতি সঞ্চারের যে উদ্দীপনা থাকে, তা ছিল না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সেই উদ্দীপনা ছিল অনুপস্থিত।"

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও বিনিয়োগ সংকট

মন্ত্রী আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রতিষ্ঠিত অর্থনীতির দেশ নয় বরং এটি একটি বিকাশমান অর্থনীতির দেশ। তিনি উল্লেখ করেন যে এখানে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ লোক কাজের বয়সে প্রবেশ করে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য যে ব্যাপক বিনিয়োগের দরকার ছিল, তা ঠিকমতো হয়নি। গত ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে বিনিয়োগে একটি স্থবিরতা বিরাজ করছিল এবং গত তিন বছর ধরে সেই স্থবিরতা প্রকট আকার ধারণ করেছে, এমনকি বিনিয়োগ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল।

সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বিশেষ চ্যালেঞ্জ

সিলেটের জন্য বিশেষ কী পরিকল্পনা আছে এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের মাধ্যমে মানুষ তাদের নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে পেরেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে মন্ত্রিপরিষদে দুজন মন্ত্রী সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মন্ত্রী বলেন, "আমাদের কাধে গুরু দায়িত্ব পড়েছে এটি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি, যে কারণে দায়িত্ব পেয়ে আনন্দ উপভোগের কোনও সুযোগ নেই।"

তিনি সিলেটের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা বিশেষ করে নিম্নলিখিত চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তুলে ধরেন:

  • মাদক সমস্যার ব্যাপকতা
  • পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের অপ্রতুলতা
  • পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির অভাব

মন্ত্রী বলেন যে এই সমস্যাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে তিনি আগ্রহী এবং সিলেটবাসীসহ দেশের সকল মানুষের জন্য গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চান।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও শিল্পখাতের উন্নয়ন

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে টিকে থাকা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান যে ইতোমধ্যে এলডিসি ডেফারের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। ট্যারিফ স্ট্রাকচার পরিবর্তনের কারণে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান চাপের মধ্যে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিগত সময়ে নানা কারণে শিল্পখাতের যথাযথ বিকাশ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই সময়ে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সিলেটের উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের সাথে সমন্বয়

সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন যে সিলেটের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সাথে বসে পরিকল্পনা করা হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান যে কাজের মধ্য দিয়েই তারা তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করবেন এবং এলাকার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবেন।