দেশের অর্থনীতি এখনও ভঙ্গুর ও অসম পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। সংগঠনটির মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিম্ন প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক খাতে চাপের কারণে অর্থনীতির ওপর অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
প্রান্তিক পর্যালোচনা প্রতিবেদন
মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকাশিত এমসিসিআইয়ের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশের অর্থনীতি নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির মধ্যে ছিল। কঠোর মুদ্রানীতি, উচ্চ সুদের হার এবং দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাত প্রত্যাশিত গতি ফিরে পায়নি।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের শেষদিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সৃষ্ট অস্থিরতা কিছুটা কমলেও অর্থনীতিতে তার প্রভাব এখনও রয়ে গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন ও বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি থাকায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সীমিত অবস্থায় রয়েছে।
মুদ্রানীতির প্রভাব
এমসিসিআই বলেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতির ফলে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হয়েছে। এতে ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ এবং উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বেশি চাপের মুখে পড়েছেন।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব
প্রতিবেদনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় বেড়েছে, পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জাহাজ পরিবহন ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি এবং মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
ইতিবাচক দিক
তবে কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে। যদিও বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে, তবুও প্রবাসী আয় বৈদেশিক খাতে বড় ধরনের চাপ সামাল দিতে ভূমিকা রাখছে।
সুপারিশ
এমসিসিআইর মতে, সামষ্টিক অর্থনীতির কয়েকটি সূচকে ধীরে ধীরে উন্নতির আভাস দেখা গেলেও পুনরুদ্ধার এখনও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। দেশীয় ও বৈশ্বিক— উভয় ধরনের ঝুঁকির মধ্যেই অর্থনীতি পরিচালিত হচ্ছে। তাই টেকসই পুনরুদ্ধারের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।



