বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আজ সোমবার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ভবনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি আরও জানান, নামমাত্র শর্তে পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে না।
বৈঠকে উদ্বেগ ও আশ্বাস
বৈঠকে ব্যাংক উদ্যোক্তারা সংশোধিত আইনের ১৮(ক) ধারায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, যাঁরা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে গেছেন, তাঁদের ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা ব্যাংক খাতে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। বিএবির সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে গেছে, তা সাধারণ মানুষও জানে। তাই তাদের ফেরার সুযোগ দিলে জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে।’
গভর্নরের আশ্বাস
আবদুল হাই সরকার জানান, গভর্নর তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে সংশোধিত আইনের ১৮(ক) ধারার শর্ত পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করলে সাবেক মালিকদের ফেরার সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে পাঁচটি ব্যাংকের চলমান একীভূতকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। গভর্নর আরও বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল, যাতে সিদ্ধান্তগুলো আরও গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিরা
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক এ কে আজাদ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চেয়ারম্যান শরীফ জহির, পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান এবং ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরী।
বিএবির লিখিত প্রস্তাব
সভায় বিএবির পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং সময় অতিবাহিত করছে। খেলাপি ঋণের পাহাড় ও মূলধন ঘাটতির চাপের মধ্যে ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধিত) আইন’ এবং এর বিশেষ কিছু ধারা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষ করে, যাঁরা একসময় ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করে চলে গেছেন, তাঁদের আবার মালিকানায় ফেরার সুযোগ থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএবি।
আন্তর্জাতিক প্রভাব
বিএবি বলেছে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো বাংলাদেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জবাবদিহির দুর্বলতা প্রকাশ পেলে দেশের ব্যাংকিং খাতের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সংস্কার প্রস্তাব
বিএবি গভর্নরকে দেওয়া চিঠিতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির জন্য মালয়েশিয়া বা দক্ষিণ কোরিয়ার আদলে একটি পেশাদার ‘জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা, অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন করে স্থগিতাদেশের অপব্যবহার রোধ এবং ফাস্ট-ট্র্যাক রিকভারি বেঞ্চ চালু। সংগঠনটি সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহ বোনাস বন্ধ না করার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে দক্ষ জনবল ধরে রাখা সম্ভব হয়। ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখতে স্টক লভ্যাংশের ওপর অতিরিক্ত কর থেকে অব্যাহতি দাবি করেছে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকগুলোকে সরাসরি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে না পাঠিয়ে একটি বিশেষ ‘ট্রান্সফরমেশন ক্যাটাগরি’তে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএবি।



