১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ পৌঁছাচ্ছে
১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ

দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর অবশেষে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে। ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের জাহাজটি আজ বুধবার দুপুরে বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষ হলে ৮ অথবা ৯ মে থেকে পুরোদমে উৎপাদনে ফিরতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।

জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারি

রিফাইনারি সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্চ ও এপ্রিলে অপরিশোধিত তেলের কোনো জাহাজ দেশে আসতে পারেনি। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাহাজ আসতে না পারায় রিফাইনারির মজুত দ্রুত কমে যায়। বাধ্য হয়ে উৎপাদনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। তেল পরিশোধন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে নতুন জাহাজ পৌঁছানোকে বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তেল খালাস ও উৎপাদন পুনরায় চালু

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জাহাজ তেল খালাসের কাজ শেষ হতে সাধারণত কয়েক দিন সময় লাগে। এরপর ধাপে ধাপে সব ইউনিট চালু করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮ ও ৯ মে থেকে রিফাইনারি পূর্ণ সক্ষমতায় তেল পরিশোধন শুরু করবে। এতে ডিজেল, পেট্রলসহ অন্যান্য জ্বালানির উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জানতে চাইলে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, জাহাজটি বুধবার দুপুরে বন্দরে পৌঁছে যাবে। এরপর শুরু হবে তেল শোধনের প্রক্রিয়া। উৎপাদনও পুরোদমে শুরু হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধের কারণে জাহাজ আসতে বিলম্ব

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, দেশের জ্বালানি চাহিদার ৮০ ভাগই সরাসরি পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। আর ২০ শতাংশ আসে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে। গত ২ মার্চ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে তেল নিতে গিয়ে যুদ্ধের কারণে আটকে যায় একটি জাহাজ। ‘নরডিক পলুকস’ নামের ওই জাহাজে ৩ মার্চ অপরিশোধিত তেল তোলা হয়। পরে রওনা দিলেও পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সেটি আবার রাস তানুরা টার্মিনালে ফিরে যায়। এটি এখনো সেখানেই আটকে আছে।

বিকল্প পথে তেল আনতে বাড়তি খরচ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক) থেকেও ১ লাখ টন তেল আনার কথা ছিল গত মাসে। এ জন্য ‘এমটি ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের একটি জাহাজের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। তবে জাহাজ কোম্পানি চুক্তি বাতিল করেছে। জেবেল ধানা বন্দরের পরিবর্তে ফুজাইরা বন্দর থেকে তেল নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে অ্যাডনক। এতে হরমুজ প্রণালি এড়ানো সম্ভব হলেও আমদানি ব্যয় বাড়বে।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এপ্রিলে রাসতানুরা বন্দর থেকে ১ লাখ টন তেল আসার কথা ছিল। তবে বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২৪ এপ্রিল এমটি নাইনেমিয়া যাত্রা শুরু করে। জাহাজটিতে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাচ্ছে। এক জাহাজেই বাড়তি খরচ পড়ছে প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা।

প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম পড়ছে ১০০ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ হাজার ২২৩ কোটি টাকার মতো। প্রতি ব্যারেলের দাম পড়ছে ১২৬ দশমিক ২৮ ডলার।