বন্ধ কারখানা চালু করতে বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক
বন্ধ কারখানা চালু করতে বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালু করতে বিশেষ তহবিল গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল থেকে কম সুদে ঋণ নিয়ে উদ্যোক্তারা তাদের বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে পারবেন। ঋণের অর্থ শুধুমাত্র চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, যা কারখানা চালু করার কাজে লাগবে। যেসব কারখানার পণ্যের বাজার চাহিদা রয়েছে এবং ক্রয়াদেশ আছে, তারাই এই সুবিধা পাবে।

তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ কারখানার তালিকা চেয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে। তহবিল গঠনের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। আজ রোববার এ বিষয়ে কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বন্ধ কারখানাগুলোর মধ্যে যেগুলোর বাজার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো চালু করাই মূল লক্ষ্য। যদি কোনো কারখানা ঋণখেলাপি হয়ে থাকে, তাহলে সহজ শর্তে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি সপ্তাহেই বন্ধ কারখানা চালুর তহবিল গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। গত শুক্রবার মে দিবস উপলক্ষে এক সমাবেশে তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তহবিলের অর্থায়ন

তহবিলটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে না সরকারি অর্থায়নে হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজের অর্থে তহবিল গঠন করে, তাহলে নতুন করে টাকা ছাপাতে হবে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে। তাই সরকারি অর্থে তহবিল গঠনের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তালিকা ও তথ্য সংগ্রহ

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ আছে এমন বন্ধ কারখানার তালিকা চেয়েছে। সম্পূর্ণ বন্ধ ও আংশিক বন্ধের তালিকা আলাদাভাবে চাওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে কখন ও কী ধরনের ঋণ দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকগুলো থেকে তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বন্ধ কারখানা চালু করতে কী সুবিধা দেওয়া যায়, তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনা চূড়ান্ত হলে তহবিল গঠন ও নীতিমালা জারি করা হবে।

পূর্ববর্তী প্রণোদনা প্যাকেজ

করোনাভাইরাসের সময় অর্থনীতি সচল রাখতে ২০২০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২৩টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, যার মোট অর্থ ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। তখন বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে এসব প্রণোদনা দিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সেসব ঋণের বড় অংশ খেলাপি হয়ে যায়।

নতুন উদ্যোগে সতর্কতা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সহজ শর্তে ঋণ নিয়মিত করে কারখানার কাঁচামাল কেনার জন্য অর্থায়ন ও ঋণপত্র খোলার সুবিধা দেওয়া হবে। তবে অর্থ পাচার ও অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুযোগ পাবে না। নতুন করে অনিয়ম–দুর্নীতি যাতে না হয়, সেদিকে নজর রাখা হবে।