লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ বাজারে নিউ আপন শিল্পালয় নামের একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা ছয় ভরি স্বর্ণ ও ১০০ ভরি রুপা লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় বাধা দেওয়ায় বাজারের এক নৈশপ্রহরীকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার লাশ পাশের চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রামগঞ্জ পৌর শহরের পাটবাজার এলাকার নিউ আপন শিল্পালয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে (২ মে) রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে নৈশপ্রহরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নৈশপ্রহরীর নাম ফরিদ হোসেন (৪৪)। তিনি রামগঞ্জ পৌরসভার মিজিবাড়ি এলাকার শাহজাহানের ছেলে। রামগঞ্জ বাজারের নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে ছিলেন। রামগঞ্জ পুলিশ বক্স থেকে পাটবাজার পর্যন্ত এলাকায় দায়িত্বে ছিলেন।
সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে
পুলিশ ও বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রামগঞ্জ বাজারে থাকা একাধিক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে একদল ডাকাত এসেছিল। পরে তারা রুপম শীলের নিউ আপন শিল্পালয়ে ডাকাতি করে। জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় দেখে ফেলেন নৈশপ্রহরী ফরিদ হোসেন। এতে বাধা দেন। তখন তাকে গাড়িয়ে তুলে নিয়ে যায় ডাকাতরা। এরপর গাড়িতে তাকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে যায় ডাকাতরা।
দোকান মালিকের বক্তব্য
দোকানের মালিক রুপম শীল বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাই। শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকার পর শনিবার সকালে দোকান খুলতে এসে দেখি শাটারের তালাগুলো ভাঙা। এরপর দোকানের ভেতর প্রবেশ করে দেখি স্বর্ণ রাখার ২৫০ কেজি ওজনের লোহার সিন্দুক নেই। এলাকার মানুষের বন্ধক রাখা ছয় ভরি স্বর্ণ ও ১০০ ভরি রুপা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। প্রায় ২০ লাখ টাকার জিনিসপত্র নিয়ে গেছে।’
পুলিশের তদন্ত
চাঁদপুর পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. সবুজ বলেন, ‘শনিবার সকালে হাজীগঞ্জে সড়কের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি রামগঞ্জ বাজারের নৈশপ্রহরী ফরিদ হোসেন। আমরা রামগঞ্জ থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।’
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘কী পরিমাণ মালামাল লুট হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত চলছে। হাজীগঞ্জ এলাকা থেকে নৈশপ্রহরী ফরিদ হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডাকাতি ও হত্যার ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’



