বাংলাদেশ বিএনপি সরকারের চলতি মেয়াদকালেই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সংসদে আলোচনা
রোববার (২৬ এপ্রিল) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব অঙ্গীকার সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
বিরোধীদলের সমালোচনা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিরোধীদলের সমালোচনা করে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে বিরোধীদল জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। জনগণ বিএনপিকে আইন প্রণয়নের ম্যান্ডেট দিয়েছে, তাই সবকিছু আইনি কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হবে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান অভিযোগ করে বলেন, বিরোধীদল জুলাই অভ্যুত্থানকে পুঁজি করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। বিরোধীদলীয় নেতা ১৪ এপ্রিল এক বিবৃতিতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ১২০০ শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বললেও গেজেট অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ৮৩৪।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে সরকার কোনো বিতর্ক সৃষ্টি করতে চায় না। তাই বিরোধীদলকেও এ বিষয়ে নতুন কোনো বিভ্রান্তিকর বর্ণনা তৈরি না করার আহ্বান জানান।
গণতন্ত্র চর্চা ও ঐক্য
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রায় দুই দশক পর জনগণ প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চার উপযোগী একটি সংসদ পেয়েছে।
বিরোধীদলের বক্তব্য
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য সংসদ গঠিত হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারের ভেতরে ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে।
ঢাকা-১৬ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল বাতেন তার নির্বাচনি এলাকায় বসবাসরত বিপুলসংখ্যক উর্দুভাষী মানুষের পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
অন্যান্য বক্তব্য
গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেন। পরবর্তীতে কার্য উপদেষ্টা কমিটি ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে। চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু তা সমর্থন করেন।
আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭), আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৭), মোরশেদ মিল্টন (বগুড়া-৭), বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (নড়াইল-১), রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১), আহাম্মদ সোহেল মনজুর (পিরোজপুর-২), তামিজ উদ্দিন (ঢাকা-২০), নূরুল ইসলাম (ভোলা-৪), মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (নারায়ণগঞ্জ-১), জামায়াতে ইসলামীর এম আবদুল আলিম (বাগেরহাট-৪), আবদুল করিম (গাইবান্ধা-২), এম তাজউদ্দিন খান (মেহেরপুর-১), এম নজমুল হুদা (মেহেরপুর-২), আবুল কাউসার এম নজরুল ইসলাম (গাইবান্ধা-৩), আমির হামজা (কুষ্টিয়া-৩), আবুল কালাম আজাদ (খুলনা-৬), মো. ইজ্জতুল্লাহ (সাতক্ষীরা-১), মুহাম্মদ আবদুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মোহাম্মদ উল্লাহ (ময়মনসিংহ-২) এবং স্বতন্ত্র সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমর (ময়মনসিংহ-১)।



