সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে একটি কুচক্রীমহল নানান অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নানা রকম মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ব্যবহার করে নগদে বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহকে জড়িয়ে নানান গালগল্প তৈরি করা হচ্ছে। বিষয়টি নগদ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। নগদ দৃঢ়ভাবে এই চক্রান্তের প্রতি তীব্র নিন্দা এবং একই সঙ্গে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
বেতন সংক্রান্ত অপপ্রচার
অপপ্রচার করা হচ্ছে যে, প্রশাসক প্রতিমাসে নয় লক্ষ এবং সহযোগী প্রশাসকগণ প্রতিমাসে পাঁচ লক্ষ টাকা করে বেতন গ্রহণ করছেন। প্রকৃত সত্য হলো, নগদের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসিক নয় লক্ষ টাকা হারে মূল বেতন (অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা ব্যতীত) গ্রহণ করতেন, যা প্রশাসকের বেতন হিসেবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রশাসক ও সহযোগী প্রশাসকগণ নগদ হতে কোনো বেতন গ্রহণ করেন না। তারা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান (বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগ) হতে বেতন গ্রহণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত যে ছবি ছড়ানো হয়েছে তা মিথ্যা এবং চক্রান্তকারীদের দ্বারা তৈরি করা। নগদ-এর কর্মীদের মাসিক বেতন সীট পরীক্ষা করা হলে এ সংক্রান্ত সকল তথ্য পাওয়া যাবে এবং এ বিষয়ে নগদ কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রশাসকের ভাতা
এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ্য যে, প্রশাসক আগস্ট, ২০২৪ এ নগদে যোগদানের পর হতে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত নগদ হতে কোনো মাসিক ভাতা পাননি। তবে, ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ হতে প্রশাসক দল বাংলাদেশ ব্যাংক হতে বিশেষ ভাতা পেতেন। পরবর্তীতে, বাংলাদেশ ব্যাংক হতে উক্ত বিশেষ ভাতা গ্রহণ না করার শর্তে নগদ-এর বোর্ড অক্টোবর, ২০২৫ হতে প্রশাসকের জন্য মাসিক দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং সহযোগী প্রশাসকদের জন্য দুই লক্ষ টাকা হারে মাসিক বিশেষ ভাতা নির্ধারণ করেন।
গাড়ি সংক্রান্ত অপপ্রচার
অপর একটি অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, নগদ থেকে দুইটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো গাড়ি নিয়েছেন প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ। প্রকৃত সত্য হলো, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে নগদের পরিবহন পুলে অনেক আগে থেকে থাকা তিনটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো গাড়ির মধ্যে একটি গাড়িই প্রশাসক দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করেন এবং অপর দুটি গাড়ি নগদের অন্যান্য কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করেন।
বোর্ড সদস্যদের সম্মানী
ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সদস্যগণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত মাসিক পঞ্চাশ হাজার টাকা করে সম্মানী পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি, প্রতিটি বোর্ড মিটিং-এ অংশগ্রহণের জন্য দশ হাজার টাকা করে সম্মানী পেয়ে থাকেন। ম্যানেজমেন্ট বোর্ড নিয়োগের পর হতে অদ্যবধি কোনো মাসে একটির অধিক বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি। উল্লিখিত সম্মানী বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ম্যানেজমেন্ট বোর্ড এর সদস্যগণকে নিয়োগের বিধি অনুযায়ী প্রদেয় হয়। নগদ-এর বোর্ড অনুমোদিত পলিসি অনুসারে কর্মী রিক্রুটমেন্ট এর উদ্দেশ্যে গঠিত ইন্টারভিউ বোর্ড-এর সদস্যগণ ইন্টারভিউ গ্রহণের জন্য সম্মানী পেয়ে থাকেন। নগদ-এর ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল সকল সদস্য এই সম্মানী পেয়ে থাকেন।
জন্মদিন উদযাপন সংক্রান্ত অপপ্রচার
অপপ্রচার করা হচ্ছে যে, নগদ-এর অর্থ খরচ করে বোট ক্লাবে প্রশাসকের জন্মদিন পালন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা তথ্য। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, বোট ক্লাবে নগদ-এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের গেট-টুগেদার অনুষ্ঠিত হয় এবং উক্ত অনুষ্ঠানের বিল প্রশাসক নিজে পরিশোধ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে নগদ-এর কোনো রূপ আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই।
গৃহপরিচারিকা ও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যয়
অপপ্রচার করা হচ্ছে যে, নগদ থেকে প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ তার গৃহপরিচারিকার বেতন নিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় পরিশোধ করেছেন। এটি সম্পূর্ণ একটি মিথ্যা প্রচারণা। প্রকৃত সত্য হলো, একই গ্রেডভুক্ত অন্যান্য সরকারি চাকুরিজীবীদের ন্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুসারে নির্বাহী পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্যে এই সুবিধার বিধান রয়েছে।
গানম্যান বা দেহরক্ষী রাখা
প্রশাসক কর্তৃক ব্যক্তিগত গানম্যান বা দেহরক্ষী রাখার বিষয়টি বিকৃতভাবে উপস্থাপনও নগদ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, নগদ-এর পূর্বতন প্রশাসক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার এর উপর নগদে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় দুর্বৃত্তকারীরা হামলা করেছে। এছাড়াও, প্রশাসক দলকে দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ মাধ্যমে হুমকি-ধামকি প্রদান করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসকের নিরাপত্তার জন্য একজন গানম্যান নিয়োগ প্রদান করা হয়।



