তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘আল মুসলিম’ গ্রুপের সাভারের তিনটি কারখানা থেকে এক হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। ছাঁটাইকৃতদের মধ্যে উলাইল এলাকায় অবস্থিত একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড থেকে এক হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকায় প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়ার থেকে ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস থেকে ৫৩ জন কর্মী রয়েছেন।
ছাঁটাইয়ের কারণ ও প্রক্রিয়া
আল-মুসলিম গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবু রায়হান জানান, ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী এই ছাঁটাই করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুসারে শ্রমিকদের যাবতীয় পাওনা ও বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ
শনিবার (৬ জুন) সকালে রেডিও কলোনি ও উলাইল এলাকার দুটি কারখানার সামনে ছাঁটাই করা অনেক শ্রমিককে অবস্থান করতে দেখা যায়। তারা কারখানার ফটকের পাশের দেয়ালে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের তালিকা দেখছিলেন। জড়ো হওয়া শ্রমিকদের দাবি, ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন যথাযথভাবে মানা হয়নি। তারা ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে কারখানা কর্তৃপক্ষের ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
সাভারের উলাইল এলাকার কারখানার সুইং সেকশনের শ্রমিক সাব্বির হোসেন বলেন, ‘ঈদের ছুটির আগে আমাদের ২০ দিনের বেতন দেয়া হয়। আমাদের কোনো নোটিশ না দিয়ে ছাঁটাই করা হয়েছে। আজকে (শনিবার) শুনি আমার চাকরি নেই। ওভারটাইম করতে হয়, কিন্তু তারা বলে কাজ নেই।’
আরেক শ্রমিক নাজমা আক্তার বলেন, ‘তিন বছর ধরে হেলপার হিসেবে কাজ করি। ঈদের ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলাম। ছুটি শেষে সকালে কারখানায় ঢুকতেই তারা (কারখানা কর্তৃপক্ষ) আমার আইডি কার্ড নিয়ে গেছে, চাকরি নেই বলে জানিয়েছে। মোবাইলে মেসেজ দেখতে বলেছে। বাসায় গিয়ে দেখি কোনো মেসেজ নেই।’
আইনগত দিক
একাধিক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ২০ ধারা অনুসারে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারেন। তবে এ ধরনের ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে ২১ ধারা অনুসারে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পরবর্তীতে কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন সাপেক্ষে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি।
বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাব
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান কী হবে সেটি নিয়ে ভাবা দরকার ছিল। অন্য সেক্টরে যত সময় যাবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিক দক্ষ হয়ে উঠবেন, তার চাকরির নিশ্চয়তা তত বেশি। তবে গার্মেন্টস সেক্টরে এর উল্টোটা হয়। এছাড়া যাদের ইনক্রিমেন্ট এবং গ্রেড বৃদ্ধি পাওয়ায় বেতন বেড়ে যায় তাদের ছাঁটাই করা হয়।’



