ঈদের পরও খাগড়াছড়িতে পর্যটকের ঢল, হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখে
ঈদের পরও খাগড়াছড়িতে পর্যটকের ঢল, ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি

ঈদের ছুটির আমেজ এখনও শেষ হয়নি খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। পুরো সপ্তাহজুড়েই পর্যটকদের সমাগম চলবে বলে জানা গেছে। এতে হাসি ফুটেছে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের মুখে। সরেজমিনে আলুটিলা, রিছাং ঝরনা ও জেলা পরিষদ পার্ক ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটকদেরও উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। সকাল ও বিকেলে পর্যটকের সংখ্যা বেশি থাকলেও গরমের কারণে দুপুরে কিছুটা কম থাকে।

পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বর্তমান অবস্থা

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্কের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কান্তি ত্রিপুরা জানান, ঈদের ছুটি শেষ হলেও তাদের পর্যটনকেন্দ্রে প্রত্যাশিত পর্যটক সমাগম হচ্ছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পার্কের প্রতিটি স্পট দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয়েছে। পুরো পার্কজুড়ে গাছ-গাছালি, লেক, ফুলের বাগান ও ঝুলন্ত সেতু থাকায় গরমের খুব একটা প্রভাব পড়ছে না। পর্যটকরা সারাদিন গাছের ছায়ায় আনন্দ বিনোদন করতে পারছেন। তিনি আরও জানান, খাগড়াছড়িতে আসা পর্যটকদের প্রথম পছন্দ জেলা পরিষদ পার্ক হলেও আলুটিলা, আলুটিলার প্রাকৃতিক গুহা, রিছাং ঝরনা, দেবতার পুকুর, মায়াবিনী লেকসহ জেলার প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র সমানভাবে সমাদৃত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

গাইরিং হোটেলের মালিক অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা জানান, ঈদের আগে ও পরে ব্যাপক পর্যটকের সমাগম হওয়ায় হোটেলসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা খুশি। চলমান এই ধারাবাহিকতা থাকলে সবাই লাভবান হবে বলে তিনি মনে করেন। হোটেল অরণ্য বিলাসের ম্যানেজার আবদুর রশিদ সাগর জানান, ঈদের আগে-পরে ব্যাপক পর্যটক সমাগম হয়েছে এবং এখনও চলমান আছে। পর্যটকদের আগমনে খাগড়াছড়ির শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউসের পাশাপাশি গাড়ির ব্যবসায়ী, খাবার হোটেলের মালিক ও কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খাগড়াছড়ির সবজি ব্যবসায়ী আবদুর রহিম জানান, ঈদের ছুটির আগে-পরে শাক-সবজিসহ মাছ ও মাংসের চাহিদা বেড়েছে এবং জমজমাট ব্যবসা চলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পর্যটকদের মতামত

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক হাসান মাহমুদ, কুমিল্লার লাকসাম থেকে আগত রুহুল আমিন ও চট্টগ্রাম থেকে আসা সাবিনা আক্তার খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে খুব খুশি। তবে তারা অভিযোগ করেন, এখানে যাতায়াতের ভাড়া অত্যধিক বেশি এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তারা প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

পার্বত্য যানবাহন মালিক কল্যাণ সমিতির নেতা ও চালক সুমন চাকমা জানান, খাগড়াছড়ি জেলার অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি রাঙামাটির সাজেক আসা-যাওয়ার জন্য প্রায় দুই শতাধিক গাড়ি পর্যটকদের সেবা দিচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সব ধরনের যানবাহনের খরচ বেড়েছে, তাই ভাড়া কমানোর সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানান, খাগড়াছড়ির পরিবেশ ও পরিস্থিতি খুবই সুন্দর এবং ভালো। তিনি পর্যটকদের ‘প্রকৃতির রানী’ খাগড়াছড়ি ভ্রমণের আহ্বান জানান। গাড়ি ভাড়া বেশি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমার জানা নেই। তবে তেলের দাম বাড়ায় গাড়ির ভাড়া বাড়া স্বাভাবিক। কিন্তু কেউ অস্বাভাবিক ভাড়া নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা পুলিশ সুপার মোরতাজা আলী খান জানান, খাগড়াছড়ির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভালো। প্রতিটি পর্যটন স্পটে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন আছে। তিনি পর্যটকদের যে কোনো সমস্যায় পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করে বলেন, ‘সমস্যা হলেই পুলিশ দ্রুত সাড়া দেবে এবং ব্যবস্থা নেবে।’