আজ শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছেন। এই তহবিলের লক্ষ্য হলো বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং অর্থনীতিকে চাঙা করা। কম সুদে এই ঋণ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের দেওয়া হবে। বিশেষ করে, ৫০০ কোটি টাকা সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) খাতে অনুদান হিসেবে বিতরণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
কোন খাতে কত বরাদ্দ
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, ৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে। এ ক্ষেত্রে ভালো ব্যাংকগুলোর অলস টাকা এনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ব্যাংকের মাঝে টাকা বরাদ্দ করার পরিকল্পনা করছে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন তহবিল।
বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত
৪১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। এই খাতে ২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশা করা হচ্ছে।
কটেজ, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই)
সিএমএসএমই খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। এই খাতে ৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৯ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ
রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ খাতের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
উত্তরবঙ্গে কৃষি হাব
প্রথমবারের মতো উত্তরবঙ্গে কৃষির কেন্দ্র (হাব) গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
পুনঃ অর্থায়ন তহবিল
১৯ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন তহবিলের মধ্যে বেশ কয়েকটি চলমান তহবিল একীভূত করে মোট ১০টি তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রি-শিপমেন্ট ফাইন্যান্স/প্যাকিং ক্রেডিট
এই খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ৫০ হাজার।
কুটির ও ক্ষুদ্র খাত (পিকেএসএফ)
কুটির ও ক্ষুদ্র খাতের জন্য পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে, যেখানে ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
বিদেশে কর্মসংস্থান
প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে, যার লক্ষ্য ১ লাখ কর্মসংস্থান।
বেকারদের কর্মসংস্থান
কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে, যাতে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
গ্রামীণ অর্থনীতি (আনসার ভিডিপি)
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে, যার মাধ্যমে এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
পরিবেশবান্ধব খাত
পরিবেশবান্ধব খাতে অর্থায়নের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যেখানে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
সৃজনশীল অর্থনীতি
সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) খাতের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
স্টার্টআপ
স্টার্টআপদের অর্থায়নের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি
হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানিকারকেরা পাবেন ২ হাজার কোটি টাকা, যাতে বাড়তি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ৫০ হাজার।
চামড়া ও জুতা রপ্তানি
চামড়া ও জুতা রপ্তানি খাতে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যেখানে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
গভর্নরের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, ‘আমাদের আর্থিক খাত বেশ চাপে আছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ অনেক বেড়ে গেছে। বেশ কিছু টাকা পাচার হয়ে গেছে। আমানতকারীদের আস্থা অনেকখানি কমে গিয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, উচ্চ সুদহারের কারণে এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা ব্যবসা বাড়াননি। এই প্রণোদনা তহবিল উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে ঋণের সুযোগ বাড়বে। এই তহবিল যথাযথ বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসবে।
গভর্নর বলেন, এই তহবিলের মাধ্যমে শিল্প খাত পুনর্গঠিত হবে, রপ্তানি বাড়বে ও কৃষি খাতে গতি পাবে। এতে প্রবাসী আয়ও বাড়বে।



