এক যুগ পর চট্টগ্রাম চেম্বারে ভোটের উৎসব, ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো
এক যুগ পর চট্টগ্রাম চেম্বারে ভোটের আমেজ

চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের ভিড়। নগরের আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নিচতলায় আজ সকালে তোলা ছবি: প্রথম আলো। শেষ এই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল ২০১৩ সালে। ভোটারদের সারি, ব্যবসায়ীদের উদ্দীপনা—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ। এরপর উৎসবে ভাটা পড়ে। ভোটের পরিবর্তে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গঠিত হয় পরের সব কমিটি। তবে এক যুগ পর আবারও ভোটের আমেজ ফিরে এসেছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে।

ভোট গ্রহণ ও ভোটার উপস্থিতি

আজ শনিবার সংগঠনটির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নগরের আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নিচতলায় চলছে ভোট গ্রহণ। সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও সেখানে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায় সকাল ৮টা থেকেই। ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। একজন সাধারণ শ্রেণির ভোটার মোট ১২টি ভোট এবং সহযোগী শ্রেণির ভোটার ৬টি ভোট দিতে পারবেন।

পরিচালক নির্বাচন প্রক্রিয়া

চেম্বার সূত্র জানায়, সংগঠনে ব্যবসায়ীদের ভোটে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৩ জন করে ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এভাবে চেম্বারের ২৪ সদস্যের পর্ষদ গঠিত হয়। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে একজন সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত হন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রার্থী ও প্যানেল

চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ শ্রেণি থেকে এবার ৩৭ জন নির্বাচন করছেন। দুই প্যানেলের ২৪ জন ছাড়া আরও ১৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন। অন্যদিকে সহযোগী শ্রেণিতে নির্বাচন করছেন ১৫ জন। দুই প্যানেলের ১২ জন ছাড়া আছেন ৩ জন স্বতন্ত্র। ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৩ জন করে ৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে আছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভোটার সংখ্যা ও প্রত্যাশা

চেম্বার জানায়, চেম্বারের মোট ভোটার ৬ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে সাধারণ সদস্য ৪ হাজার ১ জন, সহযোগী সদস্য ২ হাজার ৭৬৪ জন। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এবার নির্বাচনে অন্তত ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট পড়বে। কারণ, এক যুগ ধরে ব্যবসায়ীরা ভোট দিতে পারেননি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ ঘুচবে।

প্যানেল ও বর্জন

এবারের নির্বাচন ঘিরে দুটি প্যানেল ঘোষণা করা হয়। একটি বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ এবং অন্যটি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্বে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম। তবে গতকাল শুক্রবার চেম্বারের এই নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। তফসিল অনুযায়ী, সময়সীমার মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় প্যানেলটি সরে দাঁড়ালেও ভোটের ব্যালটে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের সব প্রার্থীর নাম ও ব্যালট নম্বর উল্লেখ থাকবে।

ভোটারদের উৎসাহ

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক পক্ষ ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেও নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি বেশ ভালো। তৃণমূলের ব্যবসায়ী থেকে বড় শিল্প গ্রুপের ব্যবসায়ী; সবাই এসেছেন ভোট দিতে। চেম্বারের সাবেক পরিচালক, সভাপতিরাও এসেছেন ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দিতে।

সরেজমিন দৃশ্য

বেলা সাড়ে ১১টায় সরেজমিন দেখা গেছে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নিচতলায় ভোটার ও ব্যবসায়ীদের ভিড়। ১৭টি বুথে চলছে ভোট গ্রহণ। ব্যবসায়ীরা ব্যালট সংগ্রহ করে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন। এদিকে ভোটকেন্দ্রের বাইরেও ব্যবসায়ীদের সমাগম দেখা গেছে।

নেতাদের বক্তব্য

ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের দলনেতা আমিরুল হক বলেন, ‘আমরা চেয়েছি ভোটার আসুক, ব্যবসায়ীরা ভোটের মাধ্যমে তাঁদের নেতা নির্বাচন করুক। এক যুগ পর চেম্বারে ভোটারের উপস্থিতি প্রমাণ করে ব্যবসায়ীরা ভোটের পক্ষে। আমরা চাই যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসুক ভোটের মাধ্যমে।’

প্রিসাইডিং কর্মকর্তার মন্তব্য

নির্বাচনে তিনজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবেই ভোট গ্রহণ চলছে। ভোটার উপস্থিতি ভালো। অনেকেই বাইরে আছেন। আশা করা যায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে।’