সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দেড় কোটি মানুষ ও ১ কোটি কোরবানিযোগ্য পশুকে মাত্র ৩ দিনে নির্বিঘ্নে ও আরামদায়কভাবে পরিবহন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সবাই সহযোগিতা করলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ক্ষতিপূরণ বিতরণ অনুষ্ঠান
শুক্রবার (২২ মে) কুমিল্লায় বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড ও বাংলাদেশ রেলওয়ের আয়োজনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মধ্যে ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার চেক বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মহাসড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনা
শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকে, তাই এ সড়ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের মহাপরিকল্পনার আওতায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার মহাসড়ক ৮ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ২০৩১ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সড়ক ৬ লেনে এবং প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার
প্রতিবছর গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধান কারণ চালকদের অদক্ষতা ও আনফিট যানবাহন। জনগণের অসচেতনতাও একটি কারণ। এসব কমিয়ে আনতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসনে সরকার কাজ করবে বলে তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহণ এবং মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান ও কারণ চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ফলে দুর্ঘটনার পরিমাণ কমে আসছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মো. জিয়াউল হক, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।



