সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম শুক্রবার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও কোরবানির পশু পরিবহনের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এবারের ঈদুল আজহার যাত্রা আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে।
ক্ষতিপূরণ বিতরণ অনুষ্ঠান
জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কুমিল্লা সার্কেল যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ক্ষতিপূরণের পরিমাণ
অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬ জনের পরিবার ও আহত ৩৩ জনের মধ্যে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়। নিহতদের প্রতিটি পরিবার ৫ লাখ টাকা করে পেয়েছে, আর আহতরা পেয়েছেন ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত।
ঈদুল আজহার চ্যালেঞ্জ
মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর ঈদুল আজহার সময় সীমিত সময়ের মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি মানুষকে কোরবানির পশুসহ পরিবহন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ঈদের যাত্রা প্রায়শই কষ্টকর হয়ে ওঠে। তবে জনগণের সহযোগিতা, সচেতনতা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আমরা আশা করছি এবারের ঈদযাত্রা মসৃণ ও আরামদায়ক হবে।
সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ
রবিউল আলম আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ১০ লেনের করিডোর হিসেবে সম্প্রসারণের কাজ চলছে, পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কেও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে
সড়ক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। চালকের অদক্ষতা, অযোগ্য যানবাহন এবং জনসচেতনতার অভাব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এসব ঘটনা কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।



