বগুড়ায় ওমরাহ হজে পাঠানোর নামে ১৫ জনের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্রাদার্স ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস নামে একটি হজ এজেন্সির পরিচালক আবু তালেব কাজল (৪০) ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ মে) বিকালে তিনি বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতারের বিবরণ
এর আগে সোমবার (১৯ মে) দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভাটারা থানাধীন প্রগতি সরণির জে-ব্লক এলাকায় বারিধারা ওয়ালি কার প্যালেস থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পিবিআই বগুড়ার ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) জাহিদ হাসান মঙ্গলবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
অভিযোগ ও ঘটনা
পুলিশ জানায়, আবু তালেব কাজল বগুড়ার কাহালু উপজেলার ভাগদুবড়া গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে। তিনি বগুড়া শহরের বড়গোলা এলাকায় ব্রাদার্স ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস নামে একটি অফিস পরিচালনা করতেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি ওমরাহ হজে পাঠানোর কথা বলে ১৫ জনের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরে ভুক্তভোগীদের ভুয়া ভিসা ও বিমানের টিকিট দেন, যার ফলে তারা কেউই ওমরাহ হজে যেতে পারেননি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরুর পক্ষ থেকে গত ২৩ জানুয়ারি কাজলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর থেকে তিনি ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরবর্তীতে পল্টন এলাকায় নতুন করে হজ এজেন্সি পরিচালনা শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও প্রতারণা
তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতারের সময় তিনি ঢাকায় একটি প্রাইভেট কার কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ওমরাহ হজে পাঠানোর নামে প্রতারণার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্ধশতাধিক বেকারের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আকতারুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বিকালে আবু তালেব কাজলকে বগুড়া আদালতে হাজির করা হলে তিনি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।



