ঢাকায় ২৭ অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে ১৯টির ইজারা সম্পন্ন
ঢাকায় ২৭ অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে ১৯টির ইজারা সম্পন্ন

রাজধানীতে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে স্থাপিত ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে ১৯টির ইজারা সম্পন্ন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তবে আটটি হাটের ইজারা এখনও বাকি রয়েছে। এর মধ্যে কিছু হাটে কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া যায়নি, আবার কোনো কোনো হাটে দরপত্রই দাখিল হয়নি। ফলে এসব হাটের জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটির পশুর হাট

ডিএনসিসি গত ৯ এপ্রিল ১২টি এবং ২৮ এপ্রিল চারটি হাটের নাম উল্লেখ করে পৃথক দরপত্র আহ্বান করে। পরে সর্বোচ্চ দরদাতাদের কাছে হাটগুলো ইজারা দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ দর উঠেছে উত্তরা দিয়াবাড়ী ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন বউবাজার এলাকার পশুর হাটে, যেখানে ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা দর পাওয়া গেছে। এই হাটের ইজারা পেয়েছেন এস এফ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ ফরিদ হোসেন।

অন্যান্য ইজারা দেওয়া হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে: মিরপুর সেকশন-৬ এর ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন খালি জায়গা (১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, ইজারাদার মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজের মো. সিরাজুল ইসলাম), মিরপুর কালশী বালুর মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা (৩০ লাখ ১১ হাজার টাকা, রেদোয়ান রহমান), ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি জায়গা (৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, শিকদার এন্টারপ্রাইজের মো. আমিনুল ইসলাম), ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাজীপাড়ার ইকরা মাদ্রাসার পাশের খালি জায়গা (১২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, এম আসলাম), ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচপকুড়া বাজার সংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকা (২৭ লাখ টাকা, রফিকুল ইসলাম সরকার), খিলক্ষেতের মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ার খালি জায়গা (৩ কোটি ৭ লাখ টাকা, বিল্লাল হোসেন), বনরুপা আবাসিক প্রকল্প এলাকা (১ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার টাকা, আরিফিন অ্যান্ড আরা এন্টারপ্রাইজের মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ), বাড্ডার স্বদেশ প্রপার্টিজের খালি জায়গা (২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, মুহাম্মদ তুহিনুর ইসলাম), এবং বড় বেরাইদে বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গা (৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা, এ এম এন্টারপ্রাইজের মো. আতাউর রহমান)।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে ছয়টি হাটে কাঙ্ক্ষিত দর বা দরপত্র পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো: খিলক্ষেত বাজার সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের জায়গা (১ কোটি ৫১ লাখ টাকা দর কাঙ্ক্ষিত), ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন খালি জায়গা (১৪ লাখ টাকা), মোহাম্মদপুরের বছিলার ৪০ ফুট রাস্তা সংলগ্ন খালি জায়গা (১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার ৪৫৬ টাকা), ভাটারার সুতিভোলা খাল সংলগ্ন খালি জায়গা (৩ কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা), ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানারভোলা অ্যাভিনিউ সংলগ্ন উত্তরা ব্লুইচগেট পর্যন্ত (৮৮ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ টাকা), এবং মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠের জায়গা (৫০ লাখ টাকা)। এসব হাটে পুনঃদরপত্র চলমান রয়েছে।

ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন জানান, যে ১০টি হাটে সর্বোচ্চ দরদাতা পাওয়া গেছে, তাদের হাটের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয়টি হাটে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত দর পেলে হাটগুলো ইজারা দেবে ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির পশুর হাট

ডিএসসিসি গত ১৬ এপ্রিল ১১টি হাট ইজারার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। ১৪ মে পর্যন্ত ৯টি হাটের ইজারায় সর্বোচ্চ দরদাতা মিলেছে। দক্ষিণ সিটিতে সর্বোচ্চ দর উঠেছে কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ির পানির পাম্প পর্যন্ত বিস্তৃত হাটে, যেখানে ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা দর পাওয়া গেছে। এই হাটের ইজারা পেয়েছেন কে বি ট্রেডের প্রোপাইটর মো. শামীম খান।

অন্যান্য ইজারা দেওয়া হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে: পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশের বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ের খালি জায়গা (৪ কোটি ১ লাখ টাকা, কাজী মাহবুব মাওলা হিমেল), উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গা (৩ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, আনিসুর রহমান টিপু), আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা (২ কোটি ১৫ লাখ টাকা, মো. জয়নাল আবেদীন রতন), শিকদার মেডিক্যাল সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গা (৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, মেসার্স সাফি এন্টারপ্রাইজের নাফিজ কবির), মোস্তমাঝি মোড় সংলগ্ন গ্রিন বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি জায়গা (৭০ লাখ টাকা, মো. গোলাম হোসেন), ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ পূর্ব পাশে খালি জায়গা (১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন), গোলাপবাগের আউটফল স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশে খালি জায়গা (৫৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৪ টাকা, বারাকা এন্টারপ্রাইজের আমির হোসেন), এবং রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গা (৭৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা, রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির টিপু সুলতান)।

বাকি দুই হাটে কাঙ্ক্ষিত দর বা দরপত্র পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো: সাদেক হোসেন খোকা খেলার মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা ও শ্যামপুর কদমতলী ট্রাক স্ট্যান্ডের খালি জায়গা। এসব হাটের পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হবে নাকি খাস আদায়ের মাধ্যমে পশুর হাট বসবে, তা সিদ্ধান্ত হয়নি।

ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত ৯টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দুটি হাটে কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া যায়নি। তাই বিধি অনুযায়ী এ দুটি হাটের বিষয়ে কী করণীয়, তা জানতে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে।