জেট ফুয়েল চুরি: চারজন বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন
জেট ফুয়েল চুরি: চারজন বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডিপো থেকে জেট ফুয়েল বোঝাই ট্যাংকলরি মাঝপথে চোরাকারবারিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পদ্মা অয়েল পিএলসি ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। অভিযুক্ত চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

সোমবার (১৮ মে) রাতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে চোরাকারবারিদের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পতেঙ্গা আউটপোস্ট রাত ১১টায় অভিযান পরিচালনা করে। পদ্মা অয়েলের ডিপো থেকে জেট ফুয়েল বোঝাই ট্যাংকলরি শাহ আমানত বিমানবন্দরে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু তা চোরাকারবারিদের কাছে পৌঁছে যায়। সেখানে সুইমিংপুলের মতো চৌবাচ্চা তৈরি করে জেট ফুয়েল সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, পাশাপাশি ড্রামে ডিজেল ও অকটেন রাখা ছিল।

জব্দকৃত তেলের পরিমাণ ও মূল্য

অভিযানে ৭ হাজার লিটার জেট ফুয়েল, ৬ হাজার লিটার ডিজেল, ১ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন এবং একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। জব্দ তেলের আনুমানিক বাজার মূল্য ২৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পদ্মা অয়েলের বক্তব্য

পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তারা জানান, জেট ফুয়েল বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু দুর্বৃত্তরা এটি কেরোসিন ও ডিজেলের সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত কমিটি

ঘটনা জানাজানি হলে বিপিসি ও পদ্মা অয়েলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। মঙ্গলবার সকালে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ আসাদুল হক (পরিচালক, পরিকল্পনা), সদস্যসচিব মিল্টন রায় (সিনিয়র সহকারী সচিব, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ)। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিপিসির মহাব্যবস্থাপক ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী এবং বিপিসির উপ-ব্যবস্থাপক খন্দকার সাজবির রহমান।

বরখাস্ত

পদ্মা অয়েল চুরির ঘটনায় চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তারা হলেন ব্যবস্থাপক সোহেল ইদ্রিস, চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা মিল্টন রায়, কর্মী মো. ইদ্রিস এবং ট্যাংকলরির চালক মো. জসিম উদ্দিন।

পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’