বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক খাতে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকার ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ বা কোনো না কোনো সমস্যার সম্মুখীন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের 'আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন ২০২৫' অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট বিতরণকৃত ঋণের ৫৯.৭৩ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ।
খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে
গত ডিসেম্বরের পর থেকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা, যা খাতটিতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ আরও বাড়িয়েছে।
বছরব্যাপী বৃদ্ধি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ব্যাংক খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ আগের বছরের তুলনায় ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। ২০২৪ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি, লিখিত-অফ এবং পুনঃতফসিলকৃত ঋণকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতের ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্পোরেট ঋণের অংশ ছিল ৪৫.৮৫ শতাংশ। মোট ঋণের ৩১.১৬ শতাংশই বড় ঋণ।
পুঁজি পর্যাপ্ততা অনুপাত কমেছে
ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বৃদ্ধির ফলে পুঁজি পর্যাপ্ততা অনুপাত এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের অনুপাত ডিসেম্বরে বছরে ব্যবধানে ৩ শতাংশ থেকে কমে ২.৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১০ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আসন্ন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়েও বেশি।
বিস্তারিত বিভাজন
এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, লিখিত-অফ ঋণ ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা এবং পুনঃঅর্থায়নকৃত ঋণ ৪ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫ সালে একক বছরে রেকর্ড পরিমাণ ১ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। আগের বছর পুনঃতফসিল করা হয়েছিল ৮৫ হাজার কোটি টাকা।
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হিসেবে দেখানো যাচ্ছে না। এই সময়ে, ব্যাংক খাত ঋণ সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ৪ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার রিজার্ভের মধ্যে মাত্র ২ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা ধরে রাখতে পেরেছে, যার অর্থ ঋণ বিধানের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা।



