আগামী ২৭ জুনের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা না হলে ২৮ জুন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। দাবি আদায় না হলে পরবর্তী সময়ে সারা দেশের গ্রাহকদের নিয়ে ঢাকায় মহাসমাবেশ এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর-উন-নবী মানিক।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে অবিলম্বে একটি স্বাধীন, পেশাদার ও গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।" একইসঙ্গে ব্যাংকটির প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচার, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
সাত দফা দাবি
সংগঠনটির পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা হস্তান্তর, ব্যাংক লুটপাটের ঘটনায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, ইসলামী ব্যাংকবিরোধী অপপ্রচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিতর্কিত বিধান সংশোধন।
অধ্যাপক নুর-উন-নবী মানিক বলেন, "ইসলামী ব্যাংক কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, আস্থা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান।" তাই গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
পরবর্তী কর্মসূচি
তিনি আরও বলেন, আগামী ২৭ জুনের মধ্যে দাবিগুলোর বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে ২৮ জুন সকাল ১১টায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপরও দাবি পূরণ না হলে সারা দেশের গ্রাহকদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।



