প্রাইম ব্যাংকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা: ৯১০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে
বেসরকারি খাতের অন্যতম প্রধান ব্যাংক প্রাইম ব্যাংক গত বছরে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে। ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর শেষে মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯১০ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের চেয়ে ১৬৫ কোটি টাকা বা ২২ শতাংশ বেশি। এই উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর ব্যাংকটি শেয়ারধারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যা ব্যাংকটির যাত্রা শুরুর পর থেকে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আর্থিক প্রতিবেদন ও লভ্যাংশ ঘোষণা
গতকাল রোববার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয় এবং একই সাথে লভ্যাংশের ঘোষণা দেওয়া হয়। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে নিয়ম অনুযায়ী, আজ সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়েছে। ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, গত বছর শেষে সব ধরনের খরচ ও কর বাদ দেওয়ার পর ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৮৪ পয়সা।
পাঁচ বছরে মুনাফার অভূতপূর্ব বৃদ্ধি
প্রাইম ব্যাংকের গত কয়েক বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২০ সালে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল মাত্র ১৮৩ কোটি টাকা। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেই মুনাফা বেড়ে এখন ৯১০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধির সমতুল্য। ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই ব্যাংকটি গত বছর ৩০ বছর পূর্ণ করেছে এবং এই সময়ে এটি তার সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে।
লভ্যাংশ বিতরণের বিশদ বিবরণ
ঘোষিত ৩০ শতাংশ লভ্যাংশের মধ্যে ২৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ অন্তর্ভুক্ত। বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমে অনুমোদিত হলে, নগদ লভ্যাংশ বাবদ কোম্পানিটি গত বছরের মুনাফা থেকে শেয়ারধারীদের মধ্যে ২৯০ কোটি টাকা বিতরণ করবে। এছাড়া, বোনাস লভ্যাংশ হিসেবে প্রতি ১০০ শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারধারীদের ৫টি শেয়ার দেওয়া হবে, তবে এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর চূড়ান্ত হবে।
শেয়ারধারীদের মধ্যে লভ্যাংশ বণ্টন
লভ্যাংশ বিতরণে সর্বোচ্চ পরিমাণ পাবেন ব্যাংকটির উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা, যাদের হাতে ব্যাংকটির শেয়ারের সাড়ে ৩৭ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। তাঁরা নগদ লভ্যাংশ বাবদ ১০৯ কোটি টাকা পাবেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লভ্যাংশ পাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা, যাদের হাতে সাড়ে ৩৪ শতাংশের বেশি শেয়ার রয়েছে এবং তারা ১০০ কোটি টাকা পাবেন। তৃতীয় সর্বোচ্চ লভ্যাংশ পাবেন ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা, যারা ৬০ কোটি টাকা পাবেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ২০ কোটি টাকার নগদ লভ্যাংশ পাবেন, কারণ ফেব্রুয়ারি শেষে তাদের হাতে ব্যাংকটির শেয়ারের ৭ শতাংশের বেশি ছিল।
প্রাইম ব্যাংকের এই সাফল্য দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।



