শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত পুরোনো নোট বাজারে ছাড়ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত টাকার নোট বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ইউনুস সরকারের সময়ে এই নোট জব্দ করে নতুন নোট আনা হলেও, এখন সিলগালা অবস্থায় পুরোনো নোট বিতরণ করা হচ্ছে। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মেনেই পুরানো নকশার নোট বিনিময় করা হচ্ছে।
পুরোনো নোট নিষিদ্ধ না হওয়ায় বিতরণে বাধা নেই
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, "যেহেতু এসব নোট নিষিদ্ধ করা হয়নি, তাই বিতরণে বাধা নেই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন নকশার নোটের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম থাকায়, আগের ছাপানো নোট বাজারে ছাড়া হচ্ছে। ৯ প্রকার নোট ছাপাতে গিয়ে চাহিদার সঙ্গে গতি রাখা সম্ভব হচ্ছিল না বলে তিনি জানান।
ব্যাংকারদের বক্তব্য
সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, "২০২৫ সালের ঈদুল আযহার সময়ে পুরোনো ছাপের নোট বিতরণ বন্ধ ছিল। তারপর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সেটা উদ্ধার করা হয়েছিল। তারপরই আমরা যথারীতি চলমান রাখছি। যেভাবে বিতরণ করা যায়, সেই সময় থেকেই করছি।"
ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি
জুলাই অভ্যুথানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ মুজিবের ভাস্কর্যগুলো ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে ইউনুস সরকার ক্ষমতায় এসে শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নোট বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে নতুন নকশার নোটের প্রচলন হয়। তবে এখন সিলগালা অবস্থায় নোট বাজারে ছাড়া হচ্ছে।
এদিকে, ঈদে নতুন নোট বিনিময় হবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন ঘোষণা দেওয়ার পরেও ঠিকই খোলাবাজারে বেশি দামে মিলছে শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নোট। নতুন নকশার নোট ছাপানোর প্রক্রিয়ার ধীর গতি নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
অর্থনৈতিক প্রভাব
এই সিদ্ধান্তে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় হবে এমন সমালোচনা থাকলেও, পুরোনো নোট বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এখন সেই সিলগালা নোট বাজারে ছাড়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, মার্কেটের চাহিদা আছে এবং চাহিদার অনুপাতের যোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যার জন্যে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। অথচ তাদের কাছে কিছু লোক আগের ডিজাইনের প্রিন্ট করা আছে, সেগুলি পর্যায়ক্রমে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।



