বিএনপি সরকারের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়োগে বিরোধীদলীয় নেতার তীব্র সমালোচনা
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদ থেকে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দিয়ে বিএনপি সরকার আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
আহসান এইচ মনসুরের সাফল্য ও সংস্কার
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, 'দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আহসান এইচ মনসুর আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনতে অনেকটাই সফল হন। তিনি ব্যাংকিং খাতে বেশ কিছু সংস্কার সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন করেন, যা আর্থিক খাতকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে।' তাঁর মতে, মনসুর ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে দৃঢ় পদক্ষেপ নেন এবং বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের মানুষের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত আনার চেষ্টা চালান।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং সেক্টরে সরকারদলীয় ব্যবসায়ীদের নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধ করা সম্ভব হতো বলে তিনি মনে করেন।
বিএনপি-আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর ক্ষোভ
পোস্টে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, 'আহসান এইচ মনসুরের সংস্কারের কারণে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর লুটপাটের পথ কিছুটা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে তারা গভর্নরের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন।' নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দখল ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা শুরু করেন বিএনপি-আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তারা বলে তিনি দাবি করেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হামলা ও নতুন গভর্নর নিয়োগ
নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে বুধবারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, 'বিএনপি-আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তাদের নির্লজ্জ মবের সাক্ষী হয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গভর্নরের উপদেষ্টাকে শারীরিক হেনস্থা করে ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়া হয়।' এই হামলার নেতৃত্ব দেন নওশাদ মোস্তফা, সারোয়ার, মাসুম বিল্লাহ, গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।
আহসান এইচ মনসুরকে না জানিয়েই নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন নাহিদ। নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়ে তিনি বলেন, 'সরকার নজিরবিহীনভাবে একজন বিতর্কিত দলীয় ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেয়। নতুন এ গভর্নর একজন সাবেক ঋণখেলাপি, যার মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকার ঋণখেলাপি ছিল।'
ভবিষ্যতের আশঙ্কা ও দাবি
নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে দিয়ে বলেন, 'এ ধরনের একজন অনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীর হাতে দেশের সর্বোচ্চ ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিরাপদ থাকবে—তা বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই।' তাঁর মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার ব্যাংকিং সেক্টর ও আর্থিক খাতে নতুন করে লুটপাটের বন্দোবস্ত করতে ইচ্ছুক।
আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান।
