বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উত্তেজনা ও অস্থিরতা
নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর খবরে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে অস্থিরতা ও উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এই দিন দুপুরে ঘটনাটি ঘটে, যখন বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর একটি সংবাদ সম্মেলন শেষে তার কার্যালয় ত্যাগ করেন। তার এই কার্যালয় ত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে অবস্থানরত কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।
উপদেষ্টাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে যখন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স কাউন্সিলের নেতারা গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। একপর্যায়ে কর্মকর্তারা তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেন, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে আরও বেশি উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আহসান উল্লাহ যখন গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তার দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উপস্থিত অন্য কর্মকর্তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাকে নিবৃত্ত করেন, কিন্তু এই সময় ওই ব্যক্তিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে আঙুল তুলে শাসাতেও দেখা যায়।
আহসান উল্লাহর নিয়োগ ও দায়িত্ব
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আহসান উল্লাহ গত বছরের জানুয়ারি মাসে এক বছরের চুক্তিতে গভর্নরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। তার মূল দায়িত্ব ছিল ব্যাংক খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে গভর্নরকে সহায়তা করা। তবে নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর প্রেক্ষাপটে তার প্রতি এই প্রতিক্রিয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঘটনার পরের পদক্ষেপ ও পরিস্থিতি
এই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য আরও অস্থিরতা এড়াতে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এই ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে নতুন গভর্নর নিয়োগের এই সংবেদনশীল সময়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে এমন প্রকাশ্য অস্থিরতা ও উত্তেজনা বিরল ঘটনা, যা আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন যে, এই ঘটনা ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে, যদি না দ্রুত সমাধানমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
