ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের জন্য নীতি সহায়তা সম্প্রসারিত করল বাংলাদেশ ব্যাংক
ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের জন্য নীতি সহায়তা সম্প্রসারিত

ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও আর্থিক পুনর্গঠন কার্যক্রমে নীতি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে এ সুবিধা ব্যবহারের শর্ত, ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশন সংরক্ষণ নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংশোধন আনা হয়েছে।

নতুন আবেদনের সময়সীমা

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বৃহস্পতিবার (৭ মে) জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নীতি সহায়তার জন্য নতুন আবেদন করতে পারবে। তবে এর আগে যেসব ঋণগ্রহীতা ইতোমধ্যে এই সুবিধা নিয়েছেন, তাদের পুনরায় আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলের সুযোগ

সার্কুলারে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অশ্রেণিকৃত (এসটিডি-শূন্য, এসটিডি-১, এসটিডি-২ এবং এসএমএ) ঋণ বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় আনা যাবে। একই সময়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নিম্নমানের শ্রেণিকৃত (এসএস, ডিএফ ও বিএল) ঋণ বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধার আওতায় পুনর্গঠন করা যাবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা

ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নীতি সহায়তার জন্য জমা দেওয়া আবেদন সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে ডাউন পেমেন্ট চেক বা অন্য কোনও ইনস্ট্রুমেন্টের মাধ্যমে দেওয়া হলে তা নগদায়নের পর থেকেই তিন মাসের সময় গণনা শুরু হবে। এছাড়া ডাউন পেমেন্ট নগদায়নের আগে কোনও আবেদন কার্যকর করা যাবে না বলেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এক্সিট সুবিধা ও প্রভিশন নীতিতে পরিবর্তন

সার্কুলারে ‘এক্সিট সুবিধা’ প্রাপ্ত ঋণ ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব ঋণকে এক্সিট (এসএমএ) হিসেবে প্রদর্শন করতে হবে এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া, প্রকৃত অর্থ আদায় না হলে পূর্বে সংরক্ষিত স্পেসিফিক প্রভিশন ব্যাংকের আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে না। তবে এর আংশিক অংশ সাধারণ প্রভিশনে স্থানান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে। আরও বলা হয়, সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যমান ঋণ সুবিধা ছাড়া নতুন কোনও ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে না।

বিশ্লেষকদের মতামত

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে সমস্যাগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িক স্বস্তি পেলেও ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ শ্রেণিকরণে আরও কঠোরতা বজায় থাকবে।