সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে ইকোনমি ক্লাস বাধ্যতামূলক
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে ইকোনমি ক্লাস বাধ্যতামূলক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য আকাশপথে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সুলভ শ্রেণি (ইকোনমি ক্লাস) বাধ্যতামূলক করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের আর্থিক ব্যয় সংকোচনের জন্য আজ বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্তের বিস্তারিত

অর্থ বিভাগের অফিস স্মারকে বলা হয়েছে, সরকারের অতিরিক্ত সচিব, সমপর্যায়ের সরকারি, স্বশাসিত, সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণে আকাশপথে সুলভ শ্রেণিতে যাতায়াত করবেন। এর আগে এ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিজনেস, ক্লাব বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণিতে ভ্রমণের সুযোগ পেতেন।

অর্থ বিভাগের এই অফিস স্মারক আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে অর্থ বিভাগের অফিস স্মারকে আকাশপথে বিদেশভ্রমণের ক্ষেত্রে সচিবদের ব্যাপারে কোনো ব্যয়সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী আদেশ ও ভ্রমণ ভাতা

২০১২ সালের ৯ অক্টোবর জারি হওয়া অর্থ বিভাগের আদেশে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সব সরকারি কর্মচারীর প্রাপ্য সুবিধা উল্লেখ করা হয়, যা এখনও বহাল আছে। সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের জন্য মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সরকারি কর্মচারীদের পদমর্যাদা অনুযায়ী ভ্রমণ ভাতা দেওয়া হয়। হোটেলের ভাড়া, যাতায়াতের ভাতা, খাবার খরচ ইত্যাদি দেওয়া হয় মার্কিন ডলারে। ভাতা নির্ধারণে ‘বিশেষ পর্যায়’ ও ‘সাধারণ পর্যায়’ নামের দুটি শ্রেণি রয়েছে। আবার দেশওয়ারি রয়েছে গ্রুপ-১, গ্রুপ-২ ও গ্রুপ-৩ নামের তিনটি শ্রেণি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রুপভিত্তিক দেশের তালিকা

গ্রুপ–১-এর মধ্যে ৩০টি দেশের নাম নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, হংকং, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরান, কুয়েত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, মেক্সিকো, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি, সুইডেন, জার্মানি, গ্রিস, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন ও তুরস্ক। এ ছাড়া রয়েছে ইউরোপ, ওশেনিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য দেশ।

গ্রুপ–২-এ রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, উজবেকিস্তান, জর্ডান, ইরাক, লেবানন, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কেনিয়া, মরিশাস, সুদান, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, লিবিয়া, মরক্কো ও আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ।

গ্রুপ–৩-এ রয়েছে নেপাল, ভিয়েতনাম, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশ।

কর্মকর্তার সংখ্যা ও ভাতা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৫০০ জনের মতো অতিরিক্ত সচিব রয়েছেন। সমমর্যাদা ধরলে এ সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে যাবে। বিদেশ ভ্রমণে গেলে অতিরিক্ত সচিবেরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্থাৎ মার্কিন ডলারে দৈনিক ভাতা পান। উচ্চ ব্যয়বহুল দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপের দেশগুলোতে সর্বোচ্চ ৪০০ ডলার পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হয়। মাঝারি ব্যয়বহুল দেশে তা সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার এবং কম ব্যয়বহুল দেশে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলার। এই ভাতা বিদেশে অবস্থানের সময় খাওয়াদাওয়া, স্থানীয় যাতায়াত ও অন্যান্য খরচের জন্য ব্যবহার করতে হয়।

বিমানভাড়ার ক্ষেত্রে এত দিন বিজনেস ক্লাস বা সমমানের টিকিটের সুবিধা ছিল। এ ছাড়া দেওয়া হতো ভালো মানের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা বা সে জন্য ভাতা। ভ্রমণ ভাতা ও আনুষঙ্গিক খরচ, যেমন ভিসা মাশুল, ভ্রমণ বিমা, এয়ারপোর্ট কর ইত্যাদিও সরকার বহন করত। অনেক ক্ষেত্রে বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট স্থানে প্রটোকল সাপোর্ট বা বিশেষ সহায়তা পাওয়া যেত। থাকত পরিবহন–সুবিধাও।

পূর্ববর্তী ব্যয়সাশ্রয়ী পদক্ষেপ

অর্থ বিভাগ এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে সরকারি খরচে আকাশপথে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ব্যয়সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিয়েছিল। তখন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ মন্ত্রীদের জন্য প্রথম শ্রেণিতে আকাশপথে ভ্রমণ করার বদলে বিজনেস বা ক্লাব অথবা এক্সিকিউটিভ শ্রেণিতে নামিয়ে আনা হয়।