ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচির কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শাখা ও উপশাখায় ব্যাংকিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।
কর্মসূচির বিবরণ
‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর আহ্বানে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কলম বিরতি পালন করেন। কর্মসূচির সময় লেনদেনসহ ব্যাংকের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকে বলে জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, মতিঝিল লোকাল অফিস, বাসাবো, শাহজাহানপুর, পল্টন, রমনা, বংশাল, নবাবপুর, ইসলামপুর, সদরঘাট, কামরাঙ্গীরচর, যাত্রাবাড়ী, দনিয়া, দয়াগঞ্জ, চকবাজার, মৌলভীবাজার, পান্থপথ, বাংলামোটর, গেণ্ডারিয়াসহ বিভিন্ন শাখা ও উপশাখায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে অংশ নেন। এ সময় ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সাধারণ গ্রাহকদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা যায়।
দাবি ও বক্তব্য
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, সাত দফা দাবিতে এর আগে মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণে এক ঘণ্টার কলম বিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
সংগঠনটির উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল, ব্যাংকের বোর্ডে লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের না রাখা, ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্টের ১৮(ক) ধারা বাতিল, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে কথিতভাবে আত্মসাৎ করা অর্থের সমন্বয়, এস আলম গ্রুপকে ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে না দেওয়া এবং ব্যাংক খাতের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।
অধ্যাপক নুর নবী মানিক অভিযোগ করেন, সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ ও ব্যাংকের স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, দাবিগুলো বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



