ফরিদপুরে পেট্রোল পাম্পে ডিজেল মজুত ও ড্রামে অকটেন বিক্রির অভিযানে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
ফরিদপুর সদর উপজেলায় একটি পেট্রোল পাম্পে ৪,৬০০ লিটার ডিজেল মজুত রেখে পাম্প বন্ধ রাখা এবং ড্রামে করে অকটেন বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুরে অবস্থিত মেসার্স শেখ সাদ ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযানে শেখ সাদ ফিলিং স্টেশনে ড্রামে করে ৩০ লিটার অকটেন বিক্রির সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করা হয়। পাশাপাশি, পাম্পটি বন্ধ রেখে ৪,৬০০ লিটার ডিজেল মজুত করে রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানে আরও উল্লেখযোগ্য যে, প্রতিষ্ঠানটির ডিজেল-২ স্টোরেজ ট্যাংকের ক্যালিব্রেশনের মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল, যা ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইনের লঙ্ঘন। এই অনিয়মের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পাম্পটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে।
অন্য পাম্পে সতর্কতা
একই দিনে ফরিদপুর সদর উপজেলার বাহেরদিয়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ইব্রাহীম ফিলিং স্টেশনেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২,২০০ লিটার পেট্রোল মজুত রেখে পাম্প বন্ধ রাখার ঘটনা ধরা পড়ে। তবে, এই পাম্পের কর্তৃপক্ষ তেল বিক্রি চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তাদের জরিমানা করা হয়নি, বরং কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অবৈধভাবে তেল মজুদ রেখে পাম্প বন্ধ রাখা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের সুশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
এই ঘটনা ফরিদপুরে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য অনিয়ম ও মজুতদারির বিষয়ে সচেতনতা বাড়িয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের সক্রিয় ভূমিকা জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষের দৃঢ় অবস্থান ভবিষ্যতে অনুরূপ অনিয়ম রোধে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



